মাগুরা পৌর সভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে। নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ৬ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার হওয়ায় পৌর সভার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিধান নেই।
কিন্তু যারা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা সবাই রাজনৈতিক ব্যক্তি। মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলতাফ হোসেনের মৃত্যুতে মেয়রের পদ শূন্য হয়। পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন বিএনপি একাংশের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র মো. ইকবাল আতাহার খান কাফু (তালা প্রতীক), মরহুম মেয়র আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. খুরশিদ হায়দার টুটুল (আনারস প্রতীক), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (২) তপন কুমার রায় (চশমা প্রতীক), জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সদস্য সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক সিদ্দিকী (কাপ-পিরিস প্রতীক) ও জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান সিরাজ সুজা (টেলিভিশন প্রতীক)।
মাগুরা পৌর সভার মোট ভোটারের সংখ্যা ৬১ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩০ হাজার ২৭২ জন এবং মহিলা ভোটার ৩১ হাজার ২৩০ জন। ভোট কেন্দ থাকবে ৩১টি। প্রার্থী ও তাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরা তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ভোট ভিক্ষা করছে।
মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান ডাক্তার এমএস আকবর এবং মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার খুরশিদ হায়দার টুটুলের পক্ষে নির্বাচন করছেন। অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মওলা ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম তপন কুমার রায়কে সমর্থন দিচ্ছেন। প্রার্থী সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলীয় প্রার্থী সমর্থন নিয়ে বিবৃতি পাল্টা বিবৃতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। মাগুরা জেলা বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি দুটি কমিটি রয়েছে। কেন্দ অনুমোদিত জেলা কমিটি মাহবুবুল হক সিদ্দিকীকে সমর্থন দিয়েছে। অপর দিকে বিদ্রোহী কমিটি ইকবাল আতাহার খানকে সমর্থন দিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই জনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। মাগুরা পৌর মেয়র নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, ছোট খাট নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ শোনা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম পাঠানো হচ্ছে। কেউ কোন লিখিত অভিযোগ এ পর্যন্ত করেনি। সংসদ সদস্য ডা. এমএস আকবরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অফিসের কাজে ছাড়া তিনি রেড ক্রিসেন্টের গাড়ি ব্যবহার করেন না। ব্যক্তিগত বা দলীয় কাজে নিজের গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন।
