দেশের পোশাক কারখানাগুলোর ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। একজন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাভারের ভবন ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা সাংবাদিকদের জানান, আলোচ্য কমিটি সারাদেশে গার্মেন্ট কারখানাগুলো পরিদর্শন করে মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর নাম প্রধানমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২৪ এপ্রিলের ভবন ধসের ঘটনার পর আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও কার্যকরভাবে উদ্ধার কাজ চালানো হয়েছে। সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রত্যেক নিহত বা আহত ব্যক্তির পরিবারের চাহিদা বিবেচনা করে দেয়া হবে। যেসব নিহত বা আহত ব্যক্তির মা-বাবা, ভাই-বোন বেঁচে আছেন, তারা যেন সহায়তা পান- এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সহায়তা দেয়ার আগে একটি তালিকা করা হবে।
মন্ত্রিসভায় গৃহীত শোক প্রস্তাবে ভবন ধসের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৬৩৭ জনকে জীবিত ও ৩২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) হালনাগাদ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে একটি অবস্থানপত্র তুলে ধরে। এ কাজে কি পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন হবে মন্ত্রণালয় তা পরে মন্ত্রিসভাকে জানাবে। তারপর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বিল্ডিং কোড হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
