সাভারে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় ভবন মালিক সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, খালেককে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা জেলা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। আবদুল খালেককে গ্রেফতারের পরপরই সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের পাশে উদ্ধার অভিযানের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এই খবর মাইকে ঘোষণা দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় পুলিশ ও রাজউক পৃথক দু’টি মামলা করে। এই মামলা দু’টিতে সোহেল রানা ও গার্মেন্টস মালিকরা ছাড়াও আবদুল খালেকের নাম রয়েছে। সাভারের যুবলীগ নেতা সোহেল রানাকে রবিবার ভারত সীমান্তের কাছে বেনাপোল থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে র্যাবের এক ব্রিফিংয়ে রানার উপস্থিতিতে বলা হয়, সাভারে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় মূলত রানাই দায়ী। আগের দিন ফাটল ধরার পরও তিনি ভবন খুলে দেন এবং ওই ভবনে থাকা পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করেন। অবশ্য রানার দাবি, কারখানা মালিকদের ‘চাপেই’ তিনি ফাটল ধরা ভবনে কাজ চালাতে দিয়েছিলেন। রানা ছাড়াও ওই ভবনে থাকা পাঁচটি কারখানার চার মালিককে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও বিজিএমইএ বলছে, মালিকদের পুলিশ গ্রেফতার করেনি। তারাই উদ্যোগ নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়েছেন।
সোহেল রানার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিধ্বস্ত রানা প্লাজার মূল মালিক তার বাবা আব্দুল খালেক। কিন্তু কাগজপত্রে দেখা গেছে, খালেকের পাশাপাশি রানা ও তার মা মর্জিনা বেগমও এই জমির মালিক। খালেকের রোষানলে পড়া সাভারের ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথ সরকারসহ অনেক ব্যবসায়ী জানান, সাভারে আসার পর খালেক কাজ নেন তেলের মিলে। ধীরে ধীরে মিলের মালিকের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ওই সময় মিলের মালিক ইয়াসিন ও আহসান হাবিব বিশ্বাস করে তাকে বিভিন্ন কাজ দিতেন। বিশেষ করে তেল, খৈল বিক্রি ও মাপজোকের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। এ সময় সুযোগ বুঝে মাঝে মধ্যে খৈল নিয়ে বাইরে বিক্রি করত। যে কারণে তার পরিচিতি ছিল কলু খালেক হিসাবে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, বাজার রোডসহ বিভিন্ন স্থানে আব্দুল খালেকের রয়েছে মার্কেট, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও বাড়ি। এছাড়া ধামরাই এলাকায় রয়েছে ব্রিক ফিল্ডসহ একাধিক স্থাপনা।
