সমুদ্রের অথৈ নীল জলরাশি মানুষকে যতই আকর্ষণ করুক না কেন, সেই নীলাভ সুন্দর জগতের অনেক বাসিন্দার চোখে কিন্তু নীলের ছোঁয়া লাগে না। সম্প্রতি জার্মান ও সুইডিশ প্রাণীবিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, সমুদ্রে যাদের বাস সে সকল প্রাণীর দেহে এমন পিগমেন্টের অভাব রয়েছে, যা দিয়ে নীল রংটি দেখা যায়। নীল হচ্ছে এমন রং যা মহাসমুদ্রের ওপর স্থল থেকে গভীর পর্যন্ত দেখা যায়। এরপরও সমুদ্রপ্রাণী তিমি, সীল—তারা এই রংটি একেবারে দেখতে পায় না। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ীর চোখে দু’ধরনের সেল থাকে, তারা কোনস নামে পরিচিত। এই সেলের জন্য প্রাণী নীল ও সবুজ রং দেখতে পারে। মানুষ ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের প্রাণীর তৃতীয় কোনস আছে যার দ্বারা লাল রংটি দেখা যায়। এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ডলফিন ও সীলের রং দেখার ক্ষমতা নেই। ফ্রাঙ্কফুটের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ব্রেইন রিসার্চের লিও পেইচ এবং তাঁর সহকর্মীরা বেশকিছু প্রজাতির উপর এ বিষয়ে পরীক্ষা চালান। দন্তবিশিষ্ট তিমি ও সীলের ওপর এ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, নীল রং দেখার সহায়ক পিগমেন্ট তাদের মধ্যে নেই। অথচ দেখা গেছে সীলের নিকটাত্মীয় নেকড়ে বাঘ এবং তিমি প্রজাতির জলহস্তীরও এই পিগমেন্ট আছে। উল্লেখ্য, তিমি ও সীলের পূর্বপুরুষ একই। যখন সেই একই পূর্বপুরুষ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয় তখনি তারা তাদের সেই পিগমেন্ট হারায়।
মি. লিও পেইচ মনে করেন, আধুনিক তিমি ও সীলের পূর্বপুরুষরা যখন সমুদ্রে গিয়ে বসবাস শুরু করে তখন তারা নীল রং দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আগের দিনে তিমি ও সীলরা উপকূল এলাকায় বাস করত, সেখানের ধূলাবালি নীল রংটি আচ্ছন্ন করে ফেলায় এ সকল প্রাণী নীল রং দেখা থেকে বঞ্চিত হতো। যে সকল প্রজাতি গভীর পানিতে বাস করছে তারা নীল কোনস ফিরে পেতে চাচ্ছে। কিন্তু তারা তাদের জেনেটিক ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারছে না। তবে এ সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী কেন নীল রং দেখছে না তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি গবেষকদের কাছে এখনো বড়ো রহস্যজনক। —রনি অধিকারী
