হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

একদল বিতর্ক যোদ্ধা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৩
সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, আরে না, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। পৃথিবী দেখতে গোলাকার, না-রে মামা পৃথিবী দেখতে কমলার মত। আপেল গাছ থেকে নিচে কেন পড়ে, উপরে যায় না কেন? হ্যা, একসময় যদি এ বিতর্কের উদ্রেক না হতো তাহলে হয়তোবা আমরা আজ চিরন্তন সত্যটা জানতামই না। অধরা অজানাই হয়তোবা থেকে যেত। ডুবে থাকতাম অন্ধকারাচ্ছন্ন জ্ঞানের সাগরে। যুগের পর যুগ পেরিয়ে যাবার সাথে সাথে এরকম অনেক বিতর্কের অবসান ঘটেছে পক্ষে-বিপক্ষে, যুক্তি আর তথ্য-উপাত্তের সন্নিবেশনে। আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানীরা ছুটেছেন আর তার্কিকরা তাদের মনে জুগিয়েছেন উদ্ভাবনের নেশা। সময়ের স্রোতে তাই একজন সময়োপযোগী ও আধুনিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক সংঘ বা ডিবেটিং সোসাইটি বা ক্লাব। তেমনই একটি ডিবেটিং সোসাইটি- হাজী মোহম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের ‘ডিবেটিং সোসাইটি অব হাবিপ্রবি’। আর এই ডিবেটিং সোসাইটি গড়ে তোলার পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক কৃষিবিদ ড. সাইফুল হুদা। কৃষিবিদ ড. সাইফুল হুদা বলেন, আমরা কলেজ আমল থেকেই বিভিন্ন ডিবেটিং কম্পিটিশন, জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছি। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকবার জয়লাভও করতে সক্ষম হয়েছিলাম। ডিবেটিং সোসাইটি অব হাবিপ্রবির পথচলা ১৭ বছর ধরে, সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। একজন মানুষকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, তথ্য-জ্ঞানসমৃদ্ধ, যুক্তিবাদী, চিন্তাশীল আর মননশীলতার অধিকারী করে গড়ে তুলতে আর জীবন গঠনে দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সোসাইটিগুলো অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। হাবিপ্রবির ডিবেটিং সোসাইটিও এর ব্যতিক্রম নয়। শুধু তাই নয়, ২০০৯-২০১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন জাতীয় ডিবেট ফেস্টিভ্যাল, স্থানীয় প্রতিযোগিতা ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করে বেশ সাফল্যের মুখ চুম্বন করেছে ডিবেটিং সোসাইটি অব হাবিপ্রবির মেধাবী, চাক্ষুস ও গৌরবান্বিত তার্কিকরা। আর পাশে ছিল সবসময় ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা। ডিবেটিং সোসাইটি অব হাবিপ্রবির তার্কিকরা দেশের অন্যতম প্রধান স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলায়, টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ২ বার অংশগ্রহণ, ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যালে ৪ বার অংশগ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালের ৭ম ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল এ হাবিপ্রবি পায় স্টার অর্গানাইজার অ্যাওয়ার্ড। যা বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছ থেকে হাবিপ্রবির ডিবেটিং সোসাইটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. রেদওয়ানুর রহমান রেজা গ্রহণ করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রী একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি একজন সফল বিতার্কিক হিসেবে নিজেকে গড়ার জন্য প্রতিনিয়ত বিতর্ক চর্চা, প্রশিক্ষণ, বিতর্ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। আর যারা আজ হাবিপ্রবির সফল বিতার্কিক যাদের নাম না বললেই নয়- যার বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. বলরাম রায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট নূরে আলম সিদ্দিকী, যিনি বর্তমানে জাতীয় ডিবেট ফেডারেশনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগে শিক্ষকতা করছেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. রেদওয়ানুর রহমান রেজার অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দ্বারা ডিবেটিং সোসাইটি অব হাবিপ্রবি পথ চলছে। তাদেরকে মায়ের মত স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন করে নিজ হাতে গড়ে তুলেছে আমাদের প্রিয় এই সংগঠনটি। ডিবেটিং সোসাইটির সদস্যরা নিষ্ঠার সাথে তাদের শ্রম আর মেধাকে কাজে লাগাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছোট হলেও আমাদের মন, বিবেক, জ্ঞানের পরিধি অনেক বড়, আর চিন্তাধারার ক্ষেত্রে আমরা অসীম সীমাহের অধিকারী। আমাদের এই সংগঠনটিকে এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে শিক্ষকদের পাশাপাশি সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অসংখ্য বিতর্ক পিপাসু শিক্ষার্থী।