পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহত্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেমিস্টার পদ্ধতিতে কোর্স পরিচালিত হয় বলে এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশুনার বাহিরে কাটানোর খুব কম সময় পায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮টায় ক্লাসে যাওয়া, তারপর টানা ৫ ঘণ্টা ক্লাস করে হলে এসে কোনোমতে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আবার ক্লাস ২ ঘণ্টা, তারপর ক্লাস শেষ হয় ৪.৩০ মিনিটে। তখন শরীর থাকে ক্লান্ত আর মনও অসুস্থ হয়ে পড়ে এভাবে প্রত্যহ ৬-৭ ঘণ্টা ক্লাস করতে করতে। তাই শরীরের ক্লান্তি ও মনের অসুস্থতা দূর করতে বিকালে ঘুরতে বের হই কয়েকজন বন্ধু মিলে ক্যাম্পাসের মনমুগ্ধকর পরিবেশে। সময় বেশি পেলে ক্যাম্পাস থেকে দুই-তিন কিলোমিটার দূরে ঘুরতে যাই। খেলার মাঠে বসে মাঝে মাঝে আড্ডা বেশ জমে উঠে, আড্ডায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়, কখনো কখনো ফুটে উঠে বাস্তব জীবনের কল্পকাহিনী। কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিলে গ্রুপ স্ট্যাডি করি, এভাবেই ক্যাম্পাস জীবনের কথা বলছিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ৫ম সেমিস্টারে পড়ুয়া মো. মশিউর রহমান রিয়াজ। সে কৃষিবিদ হয়ে দেশের কৃষির উন্নয়ন তথা গ্রামের দরিদ্র কৃষকের ভাগ্যের উন্নতিতে অংশগ্রহণ করতে চায়। মত্স্য বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র নাজিম। তার পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। সবগুলো কোর্সের ক্লাস সবেমাত্র শেষ হতে চলেছে। এদিকে টিউটোরিয়াল, প্রেজেন্টেশন, ক্লাস টেস্ট, আর এ্যাসাইনমেন্টের ভারে ব্যস্ততার মধ্যে যাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত তার। মেহেদি আজম, মত্স্য অনুষদে ৫ম সেমিস্টারে পড়ে। সে ক্যাম্পাসে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সদস্য। তার মতে ক্যাম্পাস শুধু লেখাপড়ার জন্য নয়, অংশগ্রহণ করতে হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, তবেই না নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা যাবে। সি এস ই অনুষদের ক্রিকেট প্রেমিক সুব্রত কুমার গাইন-এর মতে নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকে, ফলে লেখাপড়ায় মন ভাল বসে।
