উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন

প্রচলিত আইন শ্রম অধিকার রক্ষায় সঠিকভাবে কাজ করছে না

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪৯
প্রচলিত আইন কাঠামো শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজ করছে না। এমনকি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, লিঙ্গ বৈষম্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা পালন করছে না। আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস ২০১৩ উপলক্ষে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ প্রকাশিত বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের শ্রমিক বিভিন্নভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অধিকার হরণের মাধ্যমে বিকাশঃ বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি ২০১৩ এই শিরোনামে উন্নয়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে শ্রম বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং নতুন জনশক্তির শ্রমবাজারে প্রবেশের মধ্যে বিরাজমান ব্যবধান শ্রমিকের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দায়ী। গত দশ বছরে তথা ১৯৯১-২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যুব শ্রমশক্তি বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং একই সময়ে মোট শ্রমশক্তি বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, কর্মসংস্থানে সুযোগ এবং বেকারত্বের মধ্যে বিরাজমান বর্ধিত ব্যবধান শ্রমিকদের কম মজুরি এবং অধিকার বঞ্চিত কর্মে নিয়োজনে বাধ্য করছে। অন্যদিকে গত দশকে শ্রমে নিয়োজিত জনসংখ্যা বার্ষিক ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও বেকারত্বের সংখ্যা ৩ দশমিক ৭১ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন অন্বেষণ’র মতে, বিশ্বায়ন এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের প্রভাবে আনুষ্ঠানিক কর্ম পরিবেশ কমে যাচ্ছে ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক কর্ম পরিবেশে যোগদানে বাধ্য হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাহিদা এবং পারিবারিক সহায়তা হ্রাস এবং সেই সাথে জীবন ধারণের বাধ্যবাধকতাই নারীদের বিভিন্ন আয়বর্ধিঞ্চু কাজে নিয়োজিত হতে হচ্ছে। গত দশ বছরে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ১০ শতাংশ এবং একই সময়ে গ্রাম ও শহর এলাকায় এ বৃদ্ধির ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং অপর্যাপ্ত কর্মসংস্থান প্রাপ্তি অভিবাসনকে (বিশেষ করে গ্রাম এলাকায়) ত্বরান্বিত করছে। দক্ষ জনশক্তির তুলনায় অদক্ষ শ্রমশক্তির অভিবাসন হার বেশি। ১৯৯১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কম-দক্ষ শ্রমিকের অভিবাসন যেখানে বার্ষিক ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে দক্ষ জনশক্তি বার্ষিক অভিবাসন ১ দশমিক ৯৫ হারে কমেছে। শ্রম অধিকার রক্ষার জন্য কার্যকরী শ্রমিক সংগঠনের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভাজিত শ্রমিক সংগঠন প্রত্যাশিত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।