রংপুরে অগ্নিঝুঁকিতে ৩০টি বহুতল ভবন

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০১
রংপুর মহানগরীতে নতুন-পুরাতন মিলে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস এবং বসবাস। অভিশপ্ত রানা প্লাজার ধসের পর আতংকে দিন কাটছে নগরবাসীর। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালসহ প্রায় ৩০টি বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন মারাত্মক অগ্নিনির্বাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ঝুঁকি ছাড়াও অনেক ভবন নির্মাণেই বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। ভবনগুলো হলো প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ, আরডিআরএস’র ১টি ভবন, এসএ পরিবহন ভবন, মোতাহার কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, রজনী গন্ধা মার্কেট, হোটেল নর্থ ভিউ, শাহবাড়ী টাওয়ার, শাহ আমানত, ডাঃ মোজাফফর হোসেনের বাড়ি, ভরসা টাওয়ার, রেজেকা টাওয়ারসহ আর.কে রোড, ধাপ, লালকুটি, মেডিক্যাল পূর্বগেট এলাকার প্রায় ১০টি নির্মাণাধীন ও নির্মিত ভবন। অগ্নিনির্বাপক আইন ২০০৩ সালের ৭ ও ৮ ধারা অনুযায়ী বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে কমপক্ষে ২টি সিঁড়ি, সামনে ৩০ ফুট রাস্তা, পিছনে ও পাশ দিয়ে ৫ ফুট করে জায়গা রাখার বিধান থাকলেও কেউ আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করেননি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ডেন্টাল কলেজে প্রায় ৮/১০ হাজার শিক্ষার্থীসহ রোগীরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের সময় এটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের নকশার অনুমোদন নেয়া হলেও পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে পুনরায় নকশার অনুমোদন নেয়া হয়নি। বিল্ডিং কোডও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রাইম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নগরীতে যেসব ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড এবং অগ্নিনির্বাপন আইন অনুসরণ করা হয়নি তা দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে যে রিপোর্ট দিবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, সাভার ট্রাজেডির পর রংপুরের গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন আবাসিক ও অন্যান্য ভবন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবহার উপযোগী কিনা তা শনাক্ত করা এবং যেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয় তা পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে পত্র দেয়া হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বাহাদুল আলীর পত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রতিবেদন পাঠাবো। রংপুর ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক নিত্যনন্দ দাস জানান, অগ্নিনির্বাপক আইন ২০০৩ সালের ৭ ও ৮ ধারা অনুযায়ী এ সকল ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ২০০৩ সালের আগে যে সকল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলোকে ওই আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও কেউ তা কর্ণপাত করেননি।