ব্রিটেনের তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক ও কানাডার লোব’ল বলছে, বাংলাদেশের সাভারে ভবন ধসে তাদের সরবরাহকারী কারখানার যেসব শ্রমিক হতাহত হয়েছেন তাদেরকে ক্ষতিপূরণসহ জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য দেয়া হবে। প্রাইমার্ক জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কী ধরনের জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য দেয়া যায় তা নির্ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির একটি টিম ঢাকায় একটি এনজিওকে নিয়ে কাজ করছে। সাভারের রানা প্লাজায় যে তিনটি গার্মেন্টস ছিল তার একটি প্রাইমার্কের জন্য পোশাক সরবরাহ করত। খবর বিবিসির।
প্রাইমার্কের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলোকে জরুরি খাদ্য সাহায্য দেয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবন ধসে ব্যাপক হতাহতের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথেই এই উদ্যোগ শুরু হয়। দুর্ঘটনায় যেসব শিশু তাদের পিতা-মাতাকে হারিয়েছে তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য সাহায্য দেয়া হবে।
যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে আর্থিক সাহায্য দেয়ার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারগুলোকেও অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। যেসব ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা এই ভবন ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকেও সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে প্রাইমার্ক।
কানাডার প্রতিষ্ঠান লোব’ল কোম্পানি লিমিটেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারাও তাদের সরবরাহকারী কারখানার হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। লোব’ল বলছে, যেসব সাহায্য ক্ষতিগ্রস্তদের উপকারে আসবে তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। ক্ষতিগ্রস্তরা ও তাদের পরিবারগুলো যাতে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এসব সাহায্য থেকে লাভবান হয় সেটাই নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
ধসে পড়া ভবনের তিনটি কারখানায় প্রাইমার্ক ছাড়াও মাটালান, ম্যাঙ্গো ও বেনেটন ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হতো।
সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কানাডা থেকে জানান, সাভারে বহুতল ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমকিদের আর্থিক অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডার আমদানিকারক লোব’ল। কানাডার বিখ্যাত এই সুপার স্টোরের জো-ফ্রেস পোশাক বিভাগে বাংলাদেশের পোশাক বিপণন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির মুখপাত্র জুলিয়া হান্টার বলেন, রানা প্লাজায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়া হতে পারে তা জানা যায়নি।
এদিকে কানাডার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের গার্মেন্টস দুর্ঘটনার মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরা হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের গার্মেন্টস পণ্যকে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির সস্তা শ্রমের ফসল আখ্যা দিয়ে গতকাল এক জরুরি সভায় মিলিত হয় কানডার খুচরা বিক্রেতা পরিষদ। আজ সকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টসের প্রধান ক্রেতা সিয়ারস, ওয়ালমার্ট, রেইটম্যান, লোব’ল রিটেইল কাউন্সিল অব কানাডা’র দপ্তরে সভা হবে।
লোব’ল এবং প্রাইমার্ক কেবল কারখানাগুলোর গ্রহণযোগ্য মান নিশ্চিত করেই পণ্য ক্রয় করলে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে সিবিসি টিভিতে মন্তব্য করেছেন কানাডার কুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ট্যান্ডি থমাস।
