শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৩
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও উগ্রতা বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সকলকে সহনশীল হতে হবে। একই সঙ্গে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরো উদ্যোগী হওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা এ আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এক সাথে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে তার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের খাদ্য উত্পাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানান। জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে দেশে সরকারি গুদামের ধারণ ক্ষমতা ছিল ১৪ লাখ টন। এটি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর সরকার এখন নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে কাজ করছে। এ জন্য নিরাপদ খাদ্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন নিয়ে ‘স্টেকহোল্ডার’দের সাথে বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা লিখিতভাবে তাদের মতামত জানিয়েছে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। এ সময়ে খাদ্য সচিব মুশফেকা ইকফাত্, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব খন্দকার আতিয়ার রহমান এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক নাসের ফরিদ উপস্থিত ছিলেন। বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সহায়তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এদিকে একই দিন সচিবালয় কার্যালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সাথে সাক্ষাত্ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। সন্ত্রাস দমন আইনসহ অন্যান্য আইনের সংস্কারে সহায়তা এবং বিচারক, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সহযোগিতা দিতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বজায় রাখতে সংশোধিত শ্রম আইন সংসদে দ্রুত পাশ করার উদ্যোগ নিতে ড্যান মজীনা আইনমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। সাক্ষাত্কালে আইনমন্ত্রী মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা দূর ও আদালতে মামলাজট কমাতে আইনের সংস্কারসহ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে আইনমন্ত্রী বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। সন্ত্রাসী কাজে অর্থ বিনিয়োগকারীদের বিচারের আওতায় আনার বিধান রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুুমোদন দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে লবিয়িস্টদের অপতত্পরতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে সরকার সতর্ক। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।