রানা প্লাজার স্থানে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের দাবি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৪
কর্মক্ষেত্রে সকল শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ রানা প্লাজার স্থানে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে কর্মজীবী নারী ও সম্মিলিত নারী সমাজ। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মহান মে দিবস ও কর্মজীবী নারীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশ ও মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। কর্মজীবী নারীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শ্রমিক নেত্রী শিরীন আখতার, সভাপতি ড. প্রতীমা পাল মজুমদার, সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, সাধারণ সম্পাদক শারমিন কবীর, জীবনানন্দ দাস জয়ন্ত প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকের শ্রমের ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা কোথায়? ১৮৮৬ সালের মে মাসে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য যে সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, সেই সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। আজো শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার পায়নি। আজো তারা কারখানায় পুড়ে অংঙ্গার হয়, ভবন ধসে অকালে প্রাণ হারায়, পঙ্গুত্ব বরণ করে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা তারই প্রতিচ্ছবি। বিজিএমইএ ও সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে তারা বলেন, ভবন ধসে কিংবা আগুনে পুড়ে আর কত শ্রমিকের মৃত্যু হলে আপনারা শ্রমিকের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ করবেন। শ্রমিকরা আন্দোলন করতে রাজপথে নেমে মালিকদের একটি গাড়ির কাঁচ ভাঙ্গলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়। নিশ্চিত শাস্তি পেতে হয় আন্দোলনকারীদের। কিন্তু মালিকরা যে শত শত শ্রমিক হত্যা করছে তার কেন কোন বিচার হয় না। শ্রমিকের শ্রম কি এতই সস্তা? বক্তারা বলেন, সাভারের ভবন ধসে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের চিকিত্সা ও ক্ষতিপূরণসহ ঐ পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সাভারের ভবন ধস, তাজরিনের মালিক ও শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িত সকল গার্মেন্টস মালিকদের বিচারের আওতায় এনে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাজরিনের আগুনে পুড়ে নিহত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই দাবিতে সম্মিলিত নারী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। মানববন্ধন থেকে তারা দাবি জানান, রানা প্লাজার স্থানে পরবর্তীতে কোন বিল্ডিং নির্মাণ করা যাবে না। সেখানে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করতে হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত নারী সমাজের নেত্রী ফরিদা আখতার, রওশন আরা রুশো, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা আক্তার রুবী, সীমা দাস সীমু, শম্পা বসু প্রমুখ।