১৩ দফা এদেশের জন্মের চেতনার সঙ্গে বেমানান

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৭
জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কনজে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ১৩ দফাকে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ৭১’ সালে বাংলাদেশ যে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির ওপর দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল, সেই নীতির বিরুদ্ধে এই ১৩ দফা বিরাট চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের জন্মের চেতনার সঙ্গে ১৩ দফা বেমানান। হেফাজতের ১৩ দফা দাবি উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে সবার সোচ্চার হওয়া দরকার। দুই প্রধান নেত্রীকে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ধানমন্ডির গ্যেটে ইনস্টিটিউটে ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। জার্মান দূতাবাস ও গ্যেটে ইনস্টিটিউট ৪ জন উদীয়মান তরুণকে নিয়ে এই প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, যেকোন জাতির সংকট বা বিপর্যয়ের মুহূর্তে জাতীয় সমঝোতা বা ঐকমত্য থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বোমা হামলার ঘটনা সাম্প্রতিককালের এ ধরনের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও এমন হতে পারে। যেকোন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জাতীয় প্রয়োজনে ঐকমত্য হয়ে থাকে। একটি উত্তম সমাজে যেকোন প্রয়োজনে বড় পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ হয়ে থাকে। সংলাপকে সবসময় সমাজ উত্সাহিত করে থাকে। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে বাংলাদেশে সবকিছুকে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটা হচ্ছে সেই রাজনীতি, যে রাজনীতি রাজপথে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে উত্সাহিত করে। বাংলাদেশের সৃজনশীল ও মেধাবী তরুণ সমাজকে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও টিভি ব্যক্তিত্ব এ্যাডাম দৌলা প্যানেল আলোচনায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ৪ তরুণ হলেন-ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট আকিব হোসেন ও রাতিব আলী, সমাজকর্মী ও ব্লগার সাবনাজ দিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গুলশেতিন আহমেদ।