পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে রাজনীতিতে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পেশোয়ার হাইকোর্ট। পাকিস্তানে ১১ মে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে চিত্রাল আসনে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মোশাররফের আপিলের জবাবে পেশোয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দোস্ত মোহাম্মদ খানের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয়। খবর ডন-এর।
রায়ে বলেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ দুইবার সংবিধান লঙ্ঘন করায় তাকে জাতীয় পরিষদ কিংবা সিনেট কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া যায় না। মোশাররফ অবৈধভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন এবং বিচারবিভাগকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তাই আদালত অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেলের রাজনীতি আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করছে। রায়ে চিত্রাল আসনে মোশাররফের মনোনয়ন বাতিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনও খারিজ করে দেয়া হয়।
এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় মোশাররফকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাস-বিরোধী আদালত। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তিনি যৌথ তদন্ত দল পুনর্গঠনের যে আবেদন জানিয়েছিলেন তাও আদালত নাকচ করেছে। আকবর বুগতি হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর আগে মোশাররফকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশি রিমান্ডে রাখা হয়।
২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডিতে নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে গুলি ও বোমা হামলায় নিহত হন। সে সময় ক্ষমতায় থাকা জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে বেনজিরকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’র বিশেষ কৌঁসুলি চৌধুরী জুলফিকার আলী বলেছেন, বেনজির হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা করছেন না মোশাররফ।
২০০৭ সালে বিচারকদের বরখাস্ত করা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর আদালত ২০ এপ্রিল মোশাররফের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদের শহরতলীতে মোশাররফের বিলাসবহুল খামার বাড়িটিকে ‘সাব-জেল’ ঘোষণা করে। সেখানেই তিনি গৃহবন্দী আছেন।
