শিরিন শারমীন চৌধুরী দেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১০
দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসাবে জাতীয় সংসদের ১৩তম স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে সর্বসম্মতিক্রমে ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হন। এছাড়া প্রথমবার এবং সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য হয়ে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার এটি প্রথম ঘটনা। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টা-১৯ মিনিটে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমেই স্পিকার পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার পদে একটিমাত্র প্রস্তাব জমা পড়ে। ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে হুইপ সাগুপ্তা ইয়াসমিন প্রস্তাব সমর্থন করেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, স্পিকার পদে একজন মাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা যেতে পারে। কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ৮ (৪) ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে ভোট গ্রহণের বিধান রয়েছে। তাই আমি প্রস্তাবটি ভোটে দিচ্ছি। এরপর সংসদ সদস্যরা সকলেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। স্পিকার পদে ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাব ও সমর্থনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লেগেছে। এর আগে শিরিন শারমিন চৌধুরী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মহাজোটের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী ১৯৬৬ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম রফিকুল্লাহ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার সচিব ছিলেন। মা মরহুমা নাইয়ার সুলতানা পেশায় অধ্যাপক ছিলেন। স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন ওষুধ বিশেষজ্ঞ। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি পর্বে গৌরবময় সাফল্যের অধিকারী ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। স্নাতকেও (সম্মান) তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম এবং ১৯৮৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় একই শাখায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রাইট অব ল’ বিষয়ে গবেষণায় ডক্টরেট অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি আইন পেশায় মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হিসাবে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকেন। ঐতিহাসিক মাজদার হোসেন মামলার তিনি অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংরক্ষিত মহিলা কোটায় সংসদ সদস্য হন। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার পদে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।