জনতার মুখোমুখি বরিশালের তিন মেয়র প্রার্থী

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:০৫
গতকাল শনিবার সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত মেয়র প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন, আহসান হাবিব কামাল ও মাহমুদুল হক মামুন উপস্থিত হয়ে নির্বাচিত হলে স্ব-স্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৩ প্রার্থীকে ১০ মিনিট করে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন বলেন, বিগত ৪ বছর ৭ মাস তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছেন। নগর উন্নয়নের জন্য তার কাজের মূল্যায়ন করে পুনরায় নগরবাসী তাকে নির্বাচিত করলে তিনি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন। পরিকল্পিত নগরায়নের শুরুতে শওকত হোসেন হিরন আধুনিক ফুটপাত ও পার্কের পাশাপাশি সড়ক প্রশস্তকরণ, সৌন্দর্য্য বর্ধন ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা তুলে ধরে ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আধুনিক শান্তির নগরী হিসেবে বরিশালকে গড়ে তুলতে তার টেলিভিশন প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানান। বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল বিগত ১৯৮৪, ৯১, ৯৪ ও ২০০১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কমিশনার, পৌর মেয়র ও সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন কিভাবে নগর উন্নয়ন করতে হয় তা আমার জানা আছে। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নগরীকে পরিকল্পিতভাবে একটি স্বাস্থ্যসম্মত সুন্দর আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন আহসান হাবিব কামাল। বরিশালকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বার্থে তিনি আনারস প্রতীকে নগরবাসীকে ভোট দেয়ার আহবান জানান। অপর মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন তার বক্তৃতায় বলেন, ১৯৮১ সালে এসএসসি পাস করেছি। সেই থেকে ছাত্রদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এরপর যুবকদের নেতৃত্ব দিয়েছি। বিগত দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও গীর্জায় ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও অনুদান প্রদান করেছি। মানুষকে ভালবেসে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নির্বাচিত হতে না পারলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকবো। তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে প্রথম কাজ হবে নগর ভবনকে দুর্নীতি মুক্ত রাখা। জনগণের সম্পদ যাতে নগর উন্নয়নে সুষম বন্টন করা যায় তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মামুন। তিনি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার নগরী হিসেবে বরিশালকে গড়ে তুলতে তার দোয়াতকলম প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান। বক্তৃতার পর এ তিন মেয়র প্রার্থী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। লিখিত এসব প্রশ্নে নগরীর উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য প্রযুক্তির বিষয়াদী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। নির্বাচিত হতে পারলে আর কি উন্নয়ন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে সদ্য বিদায়ী মেয়র শওকত হোসেন হিরন বলেন, তার সময়কার অনেক কাজ বাকি রয়েছে সেগুলো সম্পন্নের পাশাপাশি বর্ধিত এলাকায় আধুনিক ফুটপাত নির্মাণসহ সড়ক প্রশস্ত করা হবে। মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ও মাহমুদুল হক মামুনকে প্রশ্ন করা হয় তারা নির্বাচিত হলে শওকত হোসেন হিরনের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবেন কিনা। জবাবে আহসান হাবিব কামাল বলেন, কাজের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কাজ কতটুকু মানসম্পন্ন হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে মাস্টার প্লান করে নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান। একই প্রশ্নের জবাবে অপর মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক মামুন বলেন, কাজ ভালো হলে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের ১০ কোটি টাকার হলফনামায় দেয়া সম্পদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনের হলফনামায় সকল প্রার্থীর চেয়ে আমি বেশি সম্পদের তথ্য দিয়েছি। বৈধ ব্যবসায় সম্পদ অর্জন করা অন্যায় কিছু নয়। তিনি অভিযোগ করেন অনেক প্রার্থী তাদের হলফনামায় সঠিক সম্পদের তথ্য দেননি। নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে মেয়র প্রার্থীদের জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি প্রফেসর এম. মোয়াজ্জেম হোসেন, সুজন-এর জেলা সভাপতি আক্কাস হোসেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল।