রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ফলে ভোটারদের মনেও নানা শঙ্কা দানা বেঁধে উঠছে। তাদের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে তো? এদিকে পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তারাও রয়েছেন টেনশনে। তবে প্রশাসন বলছে, যে কোনো মূল্যে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে। এজন্য যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেও প্রস্তুত তারা।
রাজশাহী নাগরিক কমিটির অভিযোগ : গতকাল শনিবার দুপুরে দৈনিক বার্তা কমপ্লেক্সের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও মেয়র প্রার্থী লিটনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের উপস্থিতিতে তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নির্বাচনে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মেয়র প্রার্থী বুলবুলের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাদশা।
সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের অভিযোগ
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে নাগরিক কমিটি মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে সরকার দলীয় তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও ১৬ এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। গত শুক্রবার রাতে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী, বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু এ অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার সরকারের তিনজন প্রতিমন্ত্রী সামসুল হক টুকু, আহাদ আলী সরকার, ওমর ফারুক চৌধুরীসহ প্রায় ১৬ জন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য রাজশাহী সুগার মিলের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে যে বৈঠক করেন, তা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ধারা ১৪-এর (ক) এবং (খ) এর লঙ্ঘন।
