মেয়র পদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে ভোটের লড়াই দিন দিন তীব্র হচ্ছে। একবারের পৌর চেয়ারম্যান ও দুই বারের মেয়র কামরানের বিশাল ভোট ব্যাংক ভাঙ্গতে মরিয়া এখন আরিফ। বিশেষ করে নগরীর গরীব-দুঃখী, দিনমজুর মানুষের সাথে কামরানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে আরিফকে। তাই সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আরিফ প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন এক বস্তি থেকে আরেক বস্তিতে। রিকশা চালক, দিনমজুর, ফেরিওয়ালাকে বুকে জড়িয়ে ভোট ভিক্ষা চাইছেন। অন্যদিকে ‘গরীবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত কামরান নিজের ভোট ব্যাংক রক্ষায় তত্পর। নগরীর পাড়া-মহল্লা, বস্তিতে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি বলছেন, গরীবের জন্য আমার দরজা সব সময়ই খোলা। অতীতে যেভাবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি, সারাজীবনই সেভাবে পাশে থাকবো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটির মোট ভোটের একটি বড় অংশ নিম্ন আয়ের মানুষের। তাই তাদের ভোট জয়-পরাজয়ের একটি অন্যতম ফ্যাক্টর। অতীতের নির্বাচনে তাদের ভোটের সিংহভাগ পেয়েছেন কামরান। এবার সেই ভোট ব্যাংক ধরে রাখাই কামরানের জন্য চ্যালেঞ্জ। এছাড়া অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্যও নগরবাসীর ভোট চাচ্ছেন কামরান।
নগর ভবনকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখেছি :কামরান
মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নগরভবনে ছিলাম। একবার পৌর চেয়ারম্যান, একবার সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং দু’বার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি। পাশাপাশি নগর ভবনকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখেছি। কারো প্রতিই কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি। সমানভাবে নগরীর সকল ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ করেছি। গতকাল শনিবার দক্ষিণ সুরমার টেকনিক্যাল রোড ও সাধুরবাজার এলাকায় এবং খোজারখলায় গণসংযোগকালে এক ঘরোয়া বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সকাল ১০টায় কামরান খোজারখলায় পৌঁছলে এলাকাবাসী তাকে স্বাগত জানান। তারা বিগত নির্বাচনের মতো এবারও আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার আশ্বাস দেন কামরানকে।
খোজরখলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজী ছমরু মিয়ার সভাপতিত্বে ও শাহীন আহমদ শামীমের পরিচালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সিরাজ বক্স, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রইছ আলী, ব্যবসায়ী মতছির আলী প্রমুখ। টেকনিক্যাল রোড এলাকায় গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, এডভোকেট বদরুল ইসলাম প্রমুখ।
আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী :আরিফুল হক চৌধুরী
মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল নগরীর জিন্দাবাজার, লালবাজার, পুলিশ লাইন, শাহী ঈদগাহ, কাষ্টঘর, মেন্দিবাগ ও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেছেন। এসময় তিনি বলেন, ‘বিগত ৫ বছরে সিলেট নগরীতে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, পানি সংকট আগের চেয়ে বেড়েছে অনেকগুণ’। এ অবস্থায় উন্নয়ন ও শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে টেলিভিশন মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করতে সকলের প্রতি আহবান জানান আরিফুল। তিনি বলেন, আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
বিকালে আরিফুল হক চৌধুরী জিন্দাবাজারস্থ কাজী ম্যানশন, সিটি সেন্টার, ব্লু ওয়াটার, সিলেট প্লাজা, মধুবন, লালবাজার হাসান মার্কেট এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী, প্রফেসর এ এন এ মাহবুব আহমদ, লে. কর্নেল (অব.) প্রফেসর আতাউর রহমান পীর, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল গফফার, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ডা. সায়েফ আহমদ, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। গতকাল শনিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের কাছে নাগরিক জোট মনোনীত ও ১৮ দলের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর শাহী ঈদগাহ, কাষ্টঘর ও মহজনপট্টিতে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের কাছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী কামরানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, কামরানকে নির্বাচন কমিশন থেকে সতর্ক করে দেয়ার পরও তিনি আচরণবিধি লংঘন করে চলেছেন। এমনকি আমার সমর্থিত লোকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
এদিকে, একই দিন দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকায় গণসংযোগকালে নাগরিক কমিটি মনোনীত ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আরিফ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, দেয়ালে পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্নভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাই উনার মুখে এসব অভিযোগ শোভা পায় না।
অবশেষে জনসংযোগে রিমন
অবশেষে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন প্রচার-প্রচারণায় তালা-চাবি প্রতীক নিয়ে জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। শুক্রবার কুশিঘাট এলাকায় জনসংযোগকালে জলাবদ্ধতার নিরসন, খাল-নালা উদ্ধার করে সিলেটকে একটি মডেল নগরী গড়ার কথা বলে সকলকে তালা মার্কায় ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
