ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দিন মজুরি করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে বিদ্যা মিয়া। গঙ্গাচড়ায় অদম্য মেধাবী মোতমাইনার সাধ আছে সাধ্য নেই। কমলগঞ্জে মেধাবী রোমানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রায়পুরে চানাচুর বিক্রি করে জিপিএ-৫ পেল নোমান । ফরিদপুরের সদরপুরের রাজিব খলিফা ভবিষ্যতে চার্টার একাউনটেন্ট হতে চাইলেও দারিদ্র্য তার বড় বাধা। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
দারিদ্র্যের কষাঘাতে যার ভাগ্যে জোটেনি ভালো খাবার ও ভালো কাপড়, কখনো দিন মজুরি কখোনো বা অন্যের জমিতে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে এবারের এসএসসি (কারিগরি) পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে মোঃ বিদ্যা মিয়া। এলাকার লোকজন বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকরা তাকে বিদ্যা বলেই ডাকে। সে উপজেলার ঘাগলা গ্রামের দরিদ্র কাঠমিস্ত্রী সিরাজ মিয়া ও গৃহিণী মীনা বেগমের সন্তান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তবে এতো কিছুর পরও সে দমে যায়নি। বড় হয়ে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।
গঙ্গাচড়া (রংপুর)
ঘরে পাঁচটা মেয়ে। অভাবের সংসার। বাবা মোকলেছুর রহমান ঢাকা, কুমিল্লা গিয়ে রিকশা চালায়। উপজেলার মহিপুর গ্রামের মোকলেছুরের মেয়ে মোতমাইনা মহিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাব-অনটন তাদের নিত্য সাথী। বড় বোন বি.এ পড়ে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সাধ থাকলেও তার সাধ্য নেই।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
শত প্রতিকূলতা ও দারিদ্র্যতার সাথে সংগ্রাম করে জিপিএ-৫ অর্জনকারী কমলগঞ্জের রুমানের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে দারিদ্র্যতা। রুমানদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। রুমান জানায়, তার বাবা ভাপা পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান। পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে চেয়ে, ধার-দেনা করে কোন রকমে পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি জমা দিয়েছিল। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে ক্লান্ত মা-বাবার অসহায় চাহনিতে রুমান হারিয়ে ফেলছে কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন। হূদয়বান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে রুমানের স্বপ্ন পূরণ করতে।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
নিজ বিদ্যালয়ের সামনে কয়েক বছর চানাচুর বিক্রি করে নিজের পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছে দরিদ্র কৃষক আবদুল কাদের হাওলাদারের ছেলে মোঃ নোমান সিদ্দিকী। দীর্ঘদিনের সাধনায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এলকেএইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয় হতে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থ সংকট থাকায় এখন তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ও সামর্থ্যবানদের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নোমানের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
