নদী ভাঙ্গন

কোম্পানিগঞ্জে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ৬শ’ পরিবার

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:১৪
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে গত কয়েকদিনে ছোট ফেনী নদীর ভাঙ্গনে তীরবর্তী ৬শ’ বাড়ীসহ কয়েক হাজার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন জমি ও বাড়ি হারিয়ে এখানকার কৃষকেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগী ছয়শ’ পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এখানে কোন ত্রাণ পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শিশু সন্তান ও বৃদ্ধসহ অসহায় এসব পরিবারের সদস্যরা বেড়িবাঁধের নিচে, কেউবা অন্য মানুষের বাগানে ছোট ছোট কুড়েঘর নির্মাণ করে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জসিম উদ্দিন কন্ট্রাক্টর জানান, নদীর ভাঙ্গন এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে হাজী আহাম্মদ মিস্ত্রী জামে মসজিদ, হাজী সফি উল্যাহ মাদ্রাসা, রাশেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেন্টারটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে স্থানীয় মুছাপুর স্লুইচ গেইটের ক্লোজার নির্মাণ না হওয়ায় নদীর তীরবর্তী ১১৫ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনগণ বার বার লিখিতভাবে জানানোর পরও এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন হয়ে এলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হবে। এ ব্যাপারে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আরা পারভিন জানান, অচিরেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। এর আগে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে প্রয়োজনীয় ত্রাণ দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কবে নাগাদ ত্রাণ পৌঁছবে বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে- তা কেউই বলতে পারেননি।