মৌলবাদী অর্থনীতির মাধ্যমে ৮ বড় খাতে বিনিয়োগ করছে জামায়াত

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:৩০
জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেছেন, ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টা এবং মৌলবাদী রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো সব শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী করপোরেট সদর দপ্তরে পরিণত হয়েছে। মৌলবাদী অর্থনীতির মাধ্যমে তারা আটটি বড় সেক্টরে বিনিয়োগ করছে। হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করছে তারা। গতকাল শনিবার সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-বানচাল ষড়যন্ত্রে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমীর- উল ইসলাম। ড. বারকাত জামায়াতের বিনিয়োগের আটটি সেক্টরের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে প্রথম: ব্যাংক ও বীমা ক্ষেত্র। দ্বিতীয়: ওয়ানস্টপ মলসহ দোকানপাট। তৃতীয়: ওষুধ কোম্পানি। চতুর্থ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পঞ্চম: যোগাযোগ ক্ষেত্রে (রিক্সা, ভ্যান, ট্রাক)। ষষ্ঠ: জমি ও রিয়েল অ্যাস্টেট ক্ষেত্র। সপ্তম: গণমাধ্যম। অষ্টম: বেসরকারি সংস্থা। এই আটটি ক্ষেত্র একত্রে যোগ করলেই মৌলবাদী অর্থনীতি পাওয়া যায়। জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী তত্পরতাকে একটি ত্রিভূজের সঙ্গে তুলনা করে আবুল বারকাত বলেন, ত্রিভূজের মাথা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় বাহু হচ্ছে ১৫টি জঙ্গি সংগঠন এবং এর তৃতীয় বাহু মৌলবাদী অর্থনীতি। যেখানে বছরে নিট মুনাফা দুই হাজার কোটি টাকা। গত ৩৫ বছরে সবকিছু বাদ দিয়ে তাদের মুনাফা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এত টাকা আয় করে নিজেদের শাস্তি রোধ করার জন্য তারা যে সন্ত্রাসী শক্তি অর্জন করেছে তার প্রামাণ দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের রায় ঘোষণা হওয়ার পর। ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় একটি বড় দিক ছিল সুনাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে সকলের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংবিধানের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে তার উল্লেখ আছে। কিন্তু আমরা আজও এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। এ কারণে বাংলা মাধ্যম , ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও শাস্তি কার্যকর এবং একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে এত জঘন্য প্রমাণ পেয়েছি যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শান্তির জন্য তাদের বিচার কার্যকর করতে হবে। একজন যুদ্ধাপরাধী জীবিত থাকা পর্যন্তও সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম তাদের বিচারে কাজ করে যাবে। ইকরা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর কার্যকলাপ যে ইসলাম পরিপন্থি ছিল এবং এখনও তাদের ও হেফাজতের কার্যকলাপ যে ইসলামের পরিপন্থি তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী বীর প্রতীক, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুণ হাবীব প্রমুখ।