ঝুঁকিতে তিন লাখ মানুষ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:৩০
বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত বেড়ীবাঁধটি দখল করে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসত্ কর্মকর্তা ও পুলিশের যোগসাজশে দিনে-দুপুরেই বাঁধের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। প্রতি মাসে ভাড়া হিসেবে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। বাঁধের হাজার হাজার গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। চিংড়ি ঘের তৈরি করার জন্য মাটি কেটে পুকুর বানানো হয়েছে। ফলে এই এলাকায় বসবাসরত প্রায় তিন লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাঁধের মাটি ও গাছপালা বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকেই। সিইপিজেড সংলগ্ন এলাকায় বাঁধ কেটে বর্জ্য সরাসরি সাগরে ফেলা হচ্ছে। দখলবাজদের দৌরাত্ম্যে ক্ষতবিক্ষত বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধটিকে দখলবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করা এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় মেরামত করে এর ওপর পাকা রাস্তা নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার সরেজমিনে বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হালিশহর থানাধীন চৌচালা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার এলাকায় কমপক্ষে ছয়টি স্থানে মাটি সরে গিয়ে বাঁধটি নাজুক হয়ে পড়েছে। এসব জায়গাগুলো হলো- আনন্দবাজার, ধুমপাড়া, আকমল আলী সংযোগ সড়ক, মুসলিমাবাদ, কাঠগড় ও চৌচালা। বাঁধের এক হাজার গজের মধ্যে কমপক্ষে তিন লাখ লোকের বসবাস। এছাড়া এখানে রয়েছে সিইপিজেড, কেইপিজেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কী পয়েন্ট ইন্সটলেশান)। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধটি ভেঙে গেলে অসংখ্য মানুষ হতাহত হওয়া ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রক্ষিত কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় এমপি গতকাল এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।