সাজা শেষেও কুমিল্লা কারাগারে বন্দী ১১ ভারতীয়

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:৩৫
আদালতের দেয়া সাজার মেয়াদ শেষ হলেও মুক্তি মিলছে না কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ১১ ভারতীয় বন্দির। সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১০ বছর ধরে এ কারাগারে বন্দি আছেন কেউ কেউ। গতকাল শনিবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বন্দি আছেন সাজ্জাদ হোসেন (৩৩)। তার বাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পারঘাটা জেলার পটিয়া থানার বলদিয়া হাটখোলা গ্রামে। ২৩ বছর বয়সে ২০০৩ সালের ১৪ মার্চ অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কুমিল্লা কারাগারে আসেন। তার সাজার মেয়াদ ৬ মাস ১৫ দিন শেষ হয় একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর। তারপরেও প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কারারুদ্ধ। সাজ্জাদের মতো আরো ১০ ভারতীয় বন্দি একই পরিস্থিতির শিকার। অন্য বন্দিরা হলেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘর জেলার সোনামুড়া থানার বেজিমারা গ্রামের নান্টু সিং (৩৯), একই থানার দুর্লভ নারায়ণ গ্রামের ফজর আলী (৪২), নবদীপ চন্দ্র নগর গ্রামের আবদুল কাদের মনির (৩০), সাব্রুম থানার শ্রীনগর গ্রামের কানন দেবনাথ (৫০), মেলাঘর থানার খাচুমনি গ্রামের নরেশ দেবনাথ (৫৫), কলমচূড়া থানার কলসিমুড়া গ্রামের বাবুল দাস (৪২), একই গ্রামের তাপস দাস (২২), ত্রিপুরার সোনাইমুড়া জেলার কাঠালিয়া থানার গাংকুল গ্রামের ফটিক মিয়া (২৬), একই থানার তেজামুড়া গ্রামের মনির হোসেন (২৩) ও সোনাপুর গ্রামের মো. হিরন (২২)। সীমান্তপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর তারা আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রত্যেকে তাদের সাজা ভোগ করে ফেলেছেন। কিন্তু মুক্তি মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের স্বজনরাও জানেন না তারা কোথায় আছেন। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবোধ রঞ্জন সাহা বলেন, ‘এই কারাগারে মোট বিদেশি বন্দি আছে ২১ জন। এদের মধ্যে ৩ জন মিয়ানমারের। কারা অধিদপ্তর থেকে অনুমতি পেলে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া ১১ জনকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।