খুলনা সিটি নির্বাচন

কাউন্সিলর পদে লড়ছেন চা বিক্রেতা মিনু

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ১৯:৪৯
আসন্ন খুলনা সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত ১০ নম্বর আসনের (২৯, ৩০ ও ৩১) কাউন্সিলর পদে এবারও লড়াই করছেন চা বিক্রেতা মিনু হাওলাদার। নির্বাচনে তিনি জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। জয়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই চলছে তার অবিরাম প্রচারণা। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। চল্লিশের কাছাকাছি বয়সী মিনু হাওলাদার জানান, তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার চিড়াপাড়ায়। কিন্তু তার জন্ম খুলনাতেই। রুটি-রুজির সন্ধানে তার পিতা-মাতা খুলনায় চলে আসেন অনেক আগেই। আত্মপ্রত্যয়ী মিনু ২০০৬ সালে খুলনা মহানগরীর গ্যালাক্সো কোম্পানির মোড়ে ‘মিনু-টি-স্টল’ নামে একটি চায়ের দোকান দেন। দোকান করার পর গুণগত কারণে মিনুর চায়ের স্বাদ অল্পদিনেই এলাকার মানুষের কাছে পছন্দনীয় হয়ে ওঠে। একই সাথে মিনু এলাকার অসহায়, গরীব-দুঃখী মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থেকে থেকে সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। ২০০৮ সালে প্রথম খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সংরক্ষিত ১০ নম্বর আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। তাকে নিয়ে তখন এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগে। নির্বাচনী ফলাফলে ১২ হাজার ১৪৩ ভোট পেয়ে সেবার তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। মিনু হাওলাদার বলেন, এ বছর নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা ছিল না তার। কিন্তু নির্বাচন আসতেই এলাকার মানুষ মিলে তার মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়ে দেয়। এবারও রিকশা-ভ্যান চালক এবং শ্রমজীবী মানুষরা তার পোস্টার ও চা-নাস্তার খরচ বহন করছেন। মাইক ভাড়ার টাকাও দিচ্ছেন তার এক আত্মীয়। এবার তিনি ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। মিনু বলেন, আমি চা বেইচে খাই। ইলেকশন বড় লোকদের কাম, কিন্তু এলাকার সব লোকরা মিলে আমার জন্যি কাজ করতিছে। মিনুর পাশের চা বিক্রেতা লায়লা হক জানালেন, আমরা গরিব মানুষ, বড়লোকের গেট পার হতি পারিনে। তাই আমাগো দুঃখ-কষ্ট তারা বোঝে না। তাই আমরা মিনুরে এবার আল্লায় দিলে কাউন্সিলর বানাব। ও (মিনু) গরিব বলেই আমাগের গরিবের দুঃখ-কষ্টো বোঝবে। ওই এলাকার রিকশাচালক রুস্তম আলী শিকদার বলেন, আমি একবেলা রিকশা চালাই, আর একবেলা ওর ভোট প্রচার চালাই। আর ইলেকশনের সময় যে চা খরচ হয়, তার জন্যি কিছু টাকা আমি দেই। এদিকে, নির্বাচনের সময় কাছে আসায় মিনু হাওলাদার এখন তার চায়ের দোকানে তেমন কোন সময় দিতে পারছেন না। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে ভোটারদের সাথে দেখা করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থনা করছেন ভোট, দোয়া ও আশীর্বাদ। তবে এবার সফল হবেনই এমন আত্মবিশ্বাসের কথা জানালেন মিনু হাওলাদার।