খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি খুলনায় এসেছেন। তাকে অপসারণ ছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়া সম্ভব নয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি’র প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় নগরীর উদয়ন ক্লাবে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সন্ত্রাস দমন অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের তালিকা অনুযায়ী গত ১৫ দিনেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য খুলনার দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য শুধু প্রার্থীদের গানম্যান দিলে হবে না, ভোটারদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কার্যক্রম শুরুর ১৫ দিন পূর্বে রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুকের সাথে মতবিনিময়কালে যে সব বিষয়ে তাকে অবহিত করেছিলাম তার একটিরত বাস্তবায়ন হয়নি। খুলনার সন্ত্রাস দমন, ক্ষমতাসীনদের প্রদর্শিত অস্ত্র উদ্ধার, তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের অভিযান এখনো দেখতে পায়নি খুলনাবাসী। তিনি বলেন, সদ্য বিদায়ী মেয়রের ভাগ্নে পরিচয়দানকারী সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দল ও মতের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আসছে যা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ৫ বছর সরকারি দলের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত খুলনার পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে। আচরণবিধি লংঘনে অভিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় রিটার্নিং অফিসারও নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে চট্টগ্রামের মতো একজন সত্, যোগ্য ও নিরপেক্ষ রিটার্নিং অফিসারকে নিয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী ক্যাডারদের প্রদর্শিত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা হয়নি। ময়লাপোতা মোড়ে বিএনপির মিছিলের ওপর সশস্ত্র হামলাকারী যুবলীগ ক্যাডার সাইদের মহড়া দেবার অস্ত্র জব্দ করতে পারেনি পুলিশ। খুলনা একটি সন্ত্রাস কবলিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সেনা মোতায়েনের কোন বিকল্প নেই। কেসিসি’র নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ২৮৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। মঞ্জু বলেন, অগ্নিকাণ্ডজনিত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে ৩০টি অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। ওই ৩০টি ভোট কেন্দ্র স্থাপনের প্রকৃত কারণ ও কোথায় কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে এর বিস্তারিত ব্যাখা নগরবাসী জানতে চায়। খুলনার বাইরে থেকে প্রিজাইটিং অফিসার নিয়োগ দিলে তাদের সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেস ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের আহবায়ক সাবেক মেয়র আলহাজ্ব শেখ সিরাজুল ইসলাম, ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সরদার ইউনুস আলী প্রমুখ।
