খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাহমুদ; তিন ক্রিকেটারই শুরু থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলে আসছিলেন, কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন তারা। বাকি কোনো ধরনের ক্রিকেটে তারা জড়িত কি-না; সেটা আলোচ্য নয়। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে খালেদ মাসুদ ও মোহাম্মদ রফিক অন্তত ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) প্রতিবেদনে অন্তত রফিক ও মাসুদের নামে কোনো অভিযোগ থাকছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা এও নিশ্চিত করেছে যে, খালেদ মাহমুদ সুজনের বিপক্ষেও আকসুর রিপোর্টে অন্তত অর্থনৈতিক লেনদেনের কোনো অভিযোগ থাকছে না। শুধুমাত্র আকসুর মূল রিপোর্টের পর সুপারিশে এই তিন জন সম্পর্কে মোহাম্মদ আশরাফুলের কথিত কিছু সন্দেহের উল্লেখ থাকছে বলে জানা গেছে। যেখানে বলা হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চাইলে আশরাফুলের এসব সন্দেহ ও অভিযোগ নিয়ে অধিকতর তদন্ত করে দেখতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত বিপিএল থেকেই। বিপিএলে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স কমপক্ষে দুটি ম্যাচ পাতিয়েছিল বলে তখনই সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছিল। বিপিএল শেষ হয়ে যাওয়ার প্রায় তিন মাস পর জানা গেল, ম্যাচ দুটি নিয়ে বাংলাদেশের র্যাপিং অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র্যাব) সঙ্গে নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত করছে আকসু। সেই তদন্তে শুরুতেই অন্যতম সন্দেহভাজন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। সেই সঙ্গে তিনি জানান, আরও দুই ক্রিকেটার মাহবুবুল আলম রবিন ও মোশাররফ হোসেন রুবেল তার সঙ্গী ছিলেন এই ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে।
এরপর জানা যায়, আশরাফুল নাকি তাকে অপরাধ জগতে পরিচিত করে দেয়া এবং বিপিএলে এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় খালেদ মাসুদ, খালেদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ রফিকের নাম বলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের এই তিন সাবেক কিংবদন্তীতুল্য ক্রিকেটার সংবাদ মাধ্যমে আশরাফুলের কথিত এই দাবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। কিন্তু মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়, আশরাফুলের করা অভিযোগ।
সূত্র জানাচ্ছে, আশরাফুলের অভিযোগ নিয়েই বিস্তৃত তদন্ত করেছে আকসু। এই তদন্ত করতে গিয়ে রফিক ও পাইলটের বিপক্ষে কোনো রকম প্রমাণ তারা পায়নি। যেহেতু বিপিএলের বাইরে কিছু আকসুর বড় বিবেচ্য ছিল না, তাই ২০০৪ সালের কথিত অভিযোগ নিয়ে আকসু এখন বিস্তৃত তদন্ত করেনি। তবে তারা নাকি বিসিবিকে সুপারিশ করবে যে, বিসিবি যেন আশরাফুলের এসব অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখে।
হ্যাঁ, আশরাফুলের অভিযোগমতো খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে আকসু কিছুটা সন্দেহ করার সুযোগ পেয়েছিল খালেদ মাহমুদ সুজনকে নিয়ে। সূত্রের দাবি, সুজন ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচের দিন সকালে নাস্তার টেবিলে বলেছিলেন—আজ আমরা জিতব! এই কথার রেকর্ড আকসু পেয়েছে। কিন্তু সুজন আকসুর কাছে এই কথাকে আর দশটা সাধারণ কথার মতোই বলে দাবি করেছেন। নিজের দলের জয় প্রত্যেকেই আশা করে, এই যুক্তিতে তার এই কথাকেও খুব আমলে নেয়নি আকসু। তারপর সুজনকে নিয়েও তদন্ত করার সুপারিশ আকসু করবে বলেই জানা গেছে।
সব মিলিয়ে একটা ব্যাপার পরিষ্কার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে দেয়া এই তিন সাবেক ক্রিকেটারের বিপক্ষে আশরাফুলের করা অভিযোগ ছাড়া আর কোনো প্রমাণই পাচ্ছে না আকসু। এখন প্রশ্ন হল, আশরাফুলের দাবিই কী এই মাপের ক্রিকেটারকে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট!
