উন্নয়নশীল দেশে সহযোগিতা বাড়ান

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২২:০৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ও ২০১৫ উত্তর লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) হ্রাস পাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বহু কর্মসূচি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি লাভ করতে পারছে না।’ শেখ হাসিনা ২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার ওপর সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদানের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলা কর্মসূচির পাশাপাশি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।’ গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীতে হোটেল রূপসী বাংলায় ২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ক জাতীয় সংলাপ উদ্বোধনকালে একথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ (জিইডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও রিও+২০ ড্রাফটিং কমিটির জাতীয় আহ্বায়ক ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম ২০১৫ সালের পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর ড. তুশারা ফার্নান্দো স্বাগত বক্তৃতা ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হচ্ছে। তারপর বিশ্ব উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো কী হবে- এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলো আলোচনা করে যাচ্ছে। বিশ্ব আলোচনায় প্রথম সারির একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এ বিষয়ে অবদান রাখছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে তার সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়। দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়। দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পায়। শিক্ষার হার বাড়ে। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গড়ে সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে, খাদ্যে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদ্যুত্ ও গ্যাস উত্পাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গ্রামের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় ৬৩০ ডলার থেকে প্রায় ৯৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশ নিচ্ছে। শিশুমৃত্যু হার ও মাতৃমৃত্যু হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এমডিজি পুরস্কার দিয়েছে। দেশ সাউথ-সাউথ এওয়ার্ড পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সর্বশেষ ডেমোগ্রাফিকস অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন কর্মক্ষম মানুষের হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা একটি জাতির জীবনে বড় আশীর্বাদ। এই কর্মশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।