ত্রিভুজ প্রেমের বলি মাসুদ রানা

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২২:০৯
গত শুক্রবার রাতে নরসিংদীর ব্রাহ্মন্দী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই উদঘাটিত হয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় জানা গেছে। পুলিশ গ্রেফতার করেছে রাজিব ও মোহন নামে দুই ঘাতককে। নিহত যুবকের নাম মাসুদ রানা। তার বাড়ি সাতক্ষিরা জেলার কোশখালী গ্রামে। পিতার নাম মুকুল হোসেন। সে ঢাকায় মামা আমিনুল হকের মতিঝিলস্থ বাইনারী কম্পিউটারের দোকানে সেল্স ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতো। ঘাতক রাজিবের বাড়ী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এবং মোহনের বাড়ী শহরের বীরপুর এলাকায়। মোহন ব্রাহ্মন্দী কেকেএম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। পুলিশ জানিয়েছে, একটি মেয়ের সাথে মাসুদ রানার প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ করে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। শিবপুর উপজেলার আলীনগর গ্রামের একটি মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপের সূত্রে ৩ বছর পূর্বে মাসুদ রানার প্রেম হয়। মেয়েটি ঢাকায় প্রাইভেট টিউশনী করতো। মেয়েটির প্রাইভেট ছাত্র ছিল রাজিব। মাসছয়েক পূর্বে মেয়েটি মাসুদ রানাকে রাজিবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু রাজিব তার শিক্ষিকাকে ভালবাসতো। এ কথা শিক্ষিকা জানতো না। মেয়েটির মাসুদ রানার সাথে প্রেম করার ঘটনা রাজিব জানতো। মাসুদ রানাকে তার পথের কাঁটা মনে করতে থাকে। তাকে খুন করার জন্য সে কিলার গ্রুপকে ভাড়া করে। রাজিব গত ৩১ মে মাসুদ রানাকে মোবাইলে ডেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে বেড়ানোর কথা বলে নরসিংদী নিয়ে আসে। এরপর কিলার মোহন গংদের সহায়তায় তাকে ব্রাহ্মন্দী কেকেএম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে বীভত্সভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। মাসুদ রানাকে এলোপাতাড়ি কোপানোর সময় রাজিবের হাতও সামান্য কেটে যায়। হত্যাকান্ডের পরই রাজিব মোবাইল ফোনে তার শিক্ষিকা জানায় যে, সে মাসুদ রানাকে খুন করে ফেলেছে। এ কথা শিক্ষিকা বিশ্বাস না করায় সে ঢাকায় গিয়ে তার জখমী হাত তাকে দেখিয়ে চলে আসে। এদিকে আমিনুল হক তার ভাগিনা মাসুদ রানাকে কোথাও খঁজে না পেয়ে মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে এবং ঘটনাটি র্যাব-৩কে অবহিত করে। এরপর বাসায় মাসুদ রানার ডাইরী ঘেঁটে তার প্রেমিকার মোবাইল ফোন নাম্বার উদ্ধার করে। ফোনে প্রেমিকার সাথে কথা বললে সে মাসুদ রানাকে হত্যার ঘটনা তার মামাকে জানিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ রানা হত্যাকান্ডের সাথে নরসিংদীর একটি কিলার গ্রুপ জড়িত। পুলিশ রাজিবকে গত শনিবার রাতে নরসিংদীর পৌলানপুর থেকে গ্রেফতার করে। রাজিব পুলিশকে জানিয়েছে হত্যাকান্ডে মোট ৬ জন কিলার অংশ নিয়েছিলো।