রাজনৈতিক অস্থিরতায় কমছে রেমিট্যান্স

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২০:১৪
চলতি অর্থবছরের ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত মে মাসে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ১০৮ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের অব্যাহত দরপতনের কারণেই রেমিট্যান্স কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৩৩৯ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে গত অর্থবছরে সারা বছর মিলে মোট এক হাজার ২৮৪ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সে হিসাবে গত অর্থ বছরের পুরো সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। তবে আগের মাসগুলোর তুলনায় গত দু’মাসে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪৫ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল অক্টোবর মাসে। আর গত মাসে সবচেয়ে কম ১০৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া অন্যান্য মাসের মধ্যে জুলাই মাসে এসেছিল ১২০ কোটি ডলার, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বরে ১১৭ কোটি ডলার করে, নভেম্বরে ১১০ কোটি, ডিসেম্বরে ১২৮ কোটি, জানুয়ারিতে ১৩২ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১১৬ কোটি, মার্চে ১২২ কোটি এবং এপ্রিলে ১১৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। মে মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার এসেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এক কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বিশেষায়িত দু’টি ব্যাংকের মাধ্যমে। আর বেসরকারি ২৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং বিদেশি নয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে এক কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাকার বিপরীতের ডলারের চাঙ্গা ভাবের কারণে চলতি বছরের প্রথম থেকেই প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের কম পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে অর্থ পাঠানো কমিয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।