টানা তৃতীয় দিনের মতো সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তুরস্ক। সংঘর্ষ ইস্তাম্বুল ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে চারটি বৃহত্তম শহরে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে বহু লোক। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এর আগে তুর্কী প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোগান বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিন্দা জানিয়ে তাদেরকে গণতন্ত্রবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি এর জন্য বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টিকে (সিএইচপি) দুষেছেন।
রবিবারে দিনভর বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ রাতে মারাত্মক আকার ধারণ করে। ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কোয়ার জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে মুখরিত হয়ে উঠে। তারা বিভিন্নভাবে সরকারবিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় নেচে-গেয়ে তারা উল্লাস প্রকাশ করে। তাদের শ্লোগানের ভাষা ছিল, প্রধানমন্ত্রী এরদোগানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তবে তাকসিম চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হলেও সেখানে পুলিশের তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সেদিন সংঘর্ষ বেশি হয় ইস্তাম্বুলের বেসিকটাস জেলায়। এখানে বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনেও অনেক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। সেখানেও তাদের হটাতে একই দমননীতি অবলম্বন করা হয়। রাজধানী আঙ্কারার চিত্রও অনুরূপ ছিল। এখানকার কিজিলার চত্বরেও লোকজন সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমবেত হয়। শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি শপিং কমপ্লেক্সে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকশত লোককে আটক করে। আল জাজিরার সংবাদদাতা অনিতা ম্যাকনট জানান, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ লাইন ভাঙ্গতে মাটি খননকারী যন্ত্র ব্যবহার করে।
শহরের একটি পার্কের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেটি এখন পরিণত হয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে। তুর্কী সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী এবং অতিরিক্ত ইসলামপন্থী হিসাবে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, এরদোগান তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তার সরকারের অধীনেই তুরস্কের অর্থনীতি অনেক সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।
