সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরীর ভোটের লড়াইয়ে তাদের অতীত ইমেজ একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে সামনে এসেছে। অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের দুইজনকেই দেখেছেন নগরবাসী। আর তাদের সেই অতীতকে মূল্যায়ন করেই নগরবাসী আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেবেন বলে অনেকে মনে করছেন। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী কামরান এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুলের দলীয় ও জোটগত প্রভাবের পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ ব্যক্তি ইমেজ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হবে।
এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী নিজের ঘর সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনিতেই নানা গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত সিলেট বিএনপি। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরো বিভক্ত হয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কড়া নির্দেশে দলের অপর তিন মেয়র প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, নাসিম হোসাইন ও সামসুজ্জামান জামান বসে গেলেও নির্বাচনে তারা আরিফুলের জন্য কতটা কি করবেন বা করছেন তা নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিএনপির ইলিয়াস অনুসারী হিসাবে পরিচিত আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও সামসুজ্জামান জামান এবং তাদের অনুসারীরা কোনমতেই আরিফুলকে মেনে নিতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিএনপি হাইকমান্ডের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আরিফুলের বিরোধিতায় নামছেন না। এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের আশীর্বাদে তত্কালীন প্রভাবশালী নেতা আরিফুল সিলেট বিএনপির সাইফুর গ্রুপের অনেক নেতাকর্মীকে নানাভাবে বঞ্চিত করেছেন। সেই বঞ্চনার জ্বালা তারা সহজে ভুলতে পারছেন না। এই অবস্থায় নিজ দলের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন আদায়ে আরিফুলকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মাঝে-মধ্যেই গ্রুপিং রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গত রবিবার রাতে নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত আরিফুলের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত ছাত্রদল কর্মী নাবিল বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
নগরবাসী অতীতের দুঃশাসন ভোলেনি: কামরান
গতকাল সোমবার নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আরিফুলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নগরবাসী অতীতের দুঃশাসন ভুলে যাননি। নগরবাসী ক্ষমতার দাপট আর অত্যাচার, লুটপাট দেখেছেন। নগরবাসী নিশ্চয়ই আবার সেই অন্ধকার দিনে ফিরতে চাইবেন না। নগরীর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা, মেডিক্যাল কলোনি, নার্সিং ইনস্টিটিউট, মির্জাজাঙ্গাল মণিপুরী রাজবাড়ি ও শেখঘাট কলাপাড়া এলাকায় গণসংযোগকালে কামরান এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী কাজে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের ব্যবহার করছেন। খোদ তার নির্বাচনী কার্যালয়ে অস্ত্রবাজরা একে ওপরের ওপর হামলা চালিয়ে জখম করছে। এ ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয় তিনি অস্ত্রবাজদের কতটা প্রশ্রয় দেন। গণসংযোগকালে কামরানের সাথে ছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সিরাজ বক্শ, আলহাজ্ব এমএ মতিন, দেবাশীষ দে বাসু, প্রবাসী নেতা গোলাম কিবরিয়া হীরা, সাইফুল আলম রুহেল প্রমুখ। এরপর কামরান শেখঘাট কলাপাড়া ও মণিপুরী রাজবাড়ি এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং সকলের দোয়া ও ভোট চান।
সিলেটের সব উন্নয়ন করেছে বিএনপি: আরিফুল
মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময়কালে বলেন, সিলেট নগরীর সব উন্নয়ন হয়েছে বিএনপির আমলে। তত্কালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সাইফুর রহমান এসব করেছেন। আর আজ অনেকে বিএনপির উন্নয়নকে ছিনতাই করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। আরিফুল তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কামরানকে উদ্দেশ করে বলেন, আমি বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনারা নগরীতে গত ৫ বছরে একটি উন্নয়ন কাজের প্রমাণ দেখান। উন্নয়ন যা হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হয়েছে। আজ যে পানি শোধনাগারের কথা বলা হচ্ছে সেই প্রকল্প এম সাইফুর রহমান করে গেছেন। আরিফুল হক গতকাল নগরীর কুমারপাড়ায় বৌদ্ধ সমিতির সাথে মতবিনিময়, দরগাহ মহল্লা, ফাজিল চিশতে গণসংযোগ, সুবিদ বাজারের বনকলাপাড়ায় পথসভা, কোর্ট এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা, মির্জাজাঙ্গাল ও করেরপাড়ায় লোকনাথ বাবার তিরোধান উত্সবে মতবিনিময় এবং রিকাবিবাজার, মধুশহীদ, পুলিশ কোয়ার্টার মুন্সিপাড়ায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন নাগরিক জোটের আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) আতাউর রহমান পীর, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ডা. সায়েফ আহমদ, জামায়াত নেতা হাফিজ আবদুল হাই হারুন, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া প্রমুখ। এছাড়া আরিফুল হক নগরীর জজ কোর্ট এলাকায়ও গণসংযোগ করেন।
