নিরামিষভোজীদের ডায়েট প্লান

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২১:৪৩
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ-মহিলার দৈনিক অন্তত ২৫০০ থেকে ৩ হাজার কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদ ও ডায়েটেশিয়ানগণ শরীর অনুপাতে ২০০০ থেকে ২৫০০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তির কথা বলেন। এসব খাদ্যশক্তির প্রধান উত্স মাছ, মাংস ও ডিম। কিন্তু যারা নিরামিষভোজী বা ভেজিটেরিয়ান তাদের এই খাদ্যশক্তি কিভাবে আসে এবং নিরামিষভোজীদের শারীরিক যোগ্যতা আমিষভোজীদের চেয়ে কম কিনা। এমন একটি প্রশ্ন পাঠিয়েছেন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এই প্রশ্নের উত্তর মিললো একটি বহুল প্রচারিত বিদেশি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে। বিশেষজ্ঞদের মতে নিরামিষভোজিগণ আমিষভোজীদের মতো সুস্থ-সবল জীবনযাপন করতে পারেন। বরং নিরামিষভোজীদের হূদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওবেসিটিজনিত শারীরিক সমস্যা কম হয় এবং তাদের শারীরিক ফিটনেস যথার্থ থাকে। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত খাদ্য নির্বাচন জরুরি। এক্ষেত্রে শস্যনির্ভর প্রোটিন বা আমিষ আহার খুবই দরকার। পাশাপাশি শস্যনির্ভর ডেয়ারিও নির্বাচন করতে হবে। আর এসব খাবার আহার করা গেলে দিনের ৮ ঘণ্টা কর্মক্ষম থাকা যাবে সহজেই। যেসব খাবারের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে:কিসমিস ও বিভিন্ন ধরনের বেরী ফল, আপেল, কমলা, আমলকি, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, গাজরসহ অন্যান্য ফলমূল, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবুজ শাক-সবজি, রাইস, ব্রেড, সিরিয়ালস ও ওটমিল, পেস্তা, বিভিন্ন ধরনের বিনস, বাদাম, ডাল ইত্যাদি। এসব খাবারে রয়েছে এন্টি-অক্সিডেন্টস, আঁশ, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, কে, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য মিনারেল, বিটা ক্যারোটিন, প্রোটিন, থায়ামিন, রাইবাফ্লাবিন, ভিটামিন ই, আয়রনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান। যদি কোন নিরামিষভোজী আহার করেন তবে তার শারীরিক ঘাটতি হবার কথা নয়। বরং নিরামিষভোজিগণ অধিক সুস্থ থাকেন। তবে শুধু নিরামিষ ভোজ করলে চলবে না। পাশাপাশি নিরামিষভোজীদের নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। লেখক : চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ