জিপিএ-৫ পেয়েও আর্থিক সংগতি না থাকায় দিশেহারা চলনবিলের আব্দুর রহিম ও দ্বীপ পাল। দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি করিমগঞ্জের সুমন মিঞাকে। কলারোয়ার হতদরিদ্র হসান পেয়েছে জিপিএ-৫ । নবীনগরে দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করে জয়ী মেধাবী মামুন। আর এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের সংবাদদাতারা।
চলনবিল (পাবনা)
অসুস্থ ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক পিতার সন্তান আব্দুর রহিম কৃষি শ্রম, পুকুরে মাছধরা, জালটানা এবং মাটি কাটার মতো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পরও পড়াশুনা করে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। চাটমোহর উপজেলার উত্তর সীমান্তে চলনবিলের নিভৃত গ্রাম বল্লভপুরের বাসিন্দা আব্দুর রহিমের পিতা আফছার আলী হার্টের অসুখে ভুগছে। ৫ শতাংশ বাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই। অসুস্থ পিতার সাথে আব্দুর রহিম শ্রম বিক্রি করে একমাত্র বোনকে বিয়ে দিয়েছে। দারিদ্র্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত আব্দুর রহিম জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে গার্মেন্টস-এ কাজ করার জন্য ঢাকা যায়। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে এনে হাণ্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করেন শিক্ষক নাজমা। বাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় কুপি বাতির আলোতে গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে আব্দুর রহিম। চলনবিলের অজপাড়াগাঁয়ের আরেক দরিদ্র মেধাবী ছাত্র দ্বীপ পাল নিজেও জানে না তার লেখাপড়ার কী হবে ।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা)
শ্রমজীবী কৃষক পরিবারের ছেলে হাসান উপজেলার দেয়াড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লগিয়ে দিয়েছে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। হাসান রহমানের পিতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, কয়েক বছর হলো পক্ষঘাতে সে অসুস্থ। সংসারের হাল টানতে মা হামিদা খাতুন অন্যের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় অন্যের জমিতে কাজ করে সে যে টাকা পায় তা দিয়েই পড়ার খরচ চালিয়ে আসছে। এখন মেধাবী এই ছেলের লেখাপড়াসহ আগামী দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা নিয়ে চিন্তায় বিভোর মা ও বাবা। হাসান রহমান ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চায়। সে সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করে সকলের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছে।
করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ)
করিমগঞ্জ পৌরসভার চরপাড়া গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক গোলাম মোস্তফার ছেলে সুমন মিঞা করিমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যিক বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার মা রহিমা আক্তার একজন গৃহিণী। পৈত্রিক ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কোন জমি নেই। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সুমন সবার বড়। দারিদ্র্যতা তাকে দমাতে পারেনি। কিন্তু বড় হওয়ার স্বপ্ন আর্থিক সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের হতদরিদ্র ভূমিহীন কৃষকের সন্তান আল-মামুন । বাবা মো. ইউসুফ মিয়ার ভিটেমাটি ছাড়া কোন জমিজমা নেই। দারিদ্র্যতার কষাঘাতে প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লড়াই করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে মামুন প্রমাণ করেছে ইচ্ছেশক্তি থাকলে কোন বাধাই আটকে রাখতে পারে না । বাবা তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পারায় মামুন টিউশনি করে শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ সে ভাল ফলাফল করেছে । কিন্তু তারপরও স্বস্তিতে নেই মামুন ও তার পরিবার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌসুর রহমান বলেন, মামুন অত্যন্ত মেধাবী। যদি কোন সহূদয় ব্যক্তি তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করে তবে সে তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
