বোরো চাষে ১০ জেলায় ব্যবহূত হচ্ছে পাঁচ লাখ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ পানি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:২৪
চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো চাষে ৫ লাখ কোটি লিটার ভুগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হচ্ছে। অতিরিক্ত মাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতিটি ফসল চাষ সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। আর বোরো চাষ সম্পূর্ণ সেচনির্ভর। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এক হেক্টর জমিতে বোরো চাষে এক কোটি লিটার পানি লাগে। তিনি আরো জানান, প্রতি কেজি ধান উত্পাদনে আড়াই হাজার লিটার থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পর্যন্ত পানি প্রয়োজন হয়। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় ৫ লাখ ৭ হাজার ৩শ’ ২০ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ হেক্টর বোরো জমিতে ভূগর্ভস্থ পানি সেচ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী শুধুমাত্র বোরো চাষে ৫ কোটি লিটার পানি লাগবে। শুধু বোরো চাষ নয়, গম, সবজি, পিঁয়াজ ও রসুন চাষেও সেচ প্রয়োজন। এমনকি কলা, কচু চাষেও সেচ দিতে হচ্ছে। ফলে আরো কয়েক লাখ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হচ্ছে। সেচযন্ত্রের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে গভীর নলকূপের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬টি। গভীর নলকূপের মাধ্যমে ৬৫ হাজার ৯শ’ ৫৫ হেক্টরে সেচ দেয়া হচ্ছে। অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫শ’। অগভীর নলকূপ দিয়ে ৭ লাখ ৭১ হাজার হেক্টরে সেচ দেয়া হচ্ছে। ৩২ হাজার ৫শ’ ২৭টি পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে ৭০ হাজার হেক্টরে সেচ দেয়া হচ্ছে। বিএডিসি’র যশোর অঞ্চলের সেচ বিশেষজ্ঞ ফজলে রাব্বি বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার শুরু হয়। মে পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ২০১০ সালে যশোর অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৬ দশমিক ২৯ মিটার নিচে নেমে যায়। ২০১২ সালে নেমে যায় ৭ দশমিক ২২ মিটার এবং এ বছর ৭ দশমিক ৮৭ মিটার নিচে নেমে গেছে। উত্তোলিত ভূগর্ভস্থ পানির একটা বড় অংশ নানাভাবে অপচয় হয়ে থাকে বলে ফজলে রাব্বি জানান।