কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আরশেদ আলীর ২ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রুনা লায়লা (২৭)। অন্য ভাই-বোনদের মতো রুনা লায়লা স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও জন্মের কয়েক বছর পর পোলিও আক্রান্ত হয়। তারপর থেকে রুনা লায়লার নাম ওঠে। ১৪ বছর আগে রুনার পিতা অকাল মৃত্যুবরণ করলে সংসারের হাল সামলানোর দায় বর্তায় মাতা মনোয়ারা বেগম (৭০) এর উপর। গত ৪ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে লজ্জা-শরম উপেক্ষা করে সত্তর বছরের মনোয়ারা বেগম প্রতিবন্ধী কন্যা রুনা লাইলাকে কোলে নিয়ে নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃত্তিতে। ভিক্ষাবৃত্তির জন্য প্রায় ২০/২৫ কেজি ওজনের প্রতিবন্ধী কন্যা রুনা লায়লাকে কোলে নিয়ে গ্রাম-বাজার, হাট মাইলের পর মাইল ছুটে বেড়ান। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ২ শত থেকে সর্বোচ্চ ৩ শত টাকা আয় হয় বলে জানালেন মাতা মনোয়ারা বেগম। সরকারি-বেসরকারি অনুদানে দেশের অনেক প্রতিবন্ধীর ভাগ্যোন্নয়ন হলেও আজও প্রতিবন্ধী রুনা লায়লার ভাগ্যে জোটেনি একটি হুইল চেয়ার কিংবা সরকারি-বেসরকারি সহায়তা।
