রাজধানীর ডেমরায় হেলেপড়া তিনতলা ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ডেমরার সারুলিয়া পূর্ব হাজীনগরে ‘ইভা-মঞ্জিল’ নামের ভবনটি রবিবার পাশের ছয়তলা ভবনের গায়ে হেলে পড়ে। রাতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান এবং দুই ভবনের সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়।
রাজউকের অথরাইজেশন অফি-সার-৪ আফসারউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘ইভা মঞ্জিলের’ মালিককে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে নিজ দায়িত্বে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাড়িটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনতলা ওই বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সব ধরনের অনুমোদন নেয়া হয়েছিল কি না এবং বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রাজউক কর্মকর্তারা জানান।
রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, হেলেপড়া বাড়িটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক থেকে কোন ধরনের অনুমোদন নেয়া হয়নি। বাড়ির মালিক সাদা কাগজে ভবনের একটি নকশা দেখান। যার এক কোনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সিল-সহি রয়েছে। এ ছাড়া আর কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বাড়ির মালিক। ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ভবনের নকশা অনুমোদনের এক্তিয়ার স্থানীয় চেয়ারম্যানের আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ জানান, ভবন দুটি থেকে লোকজন সরিয়ে রাতেই বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। দুটি ভবনেই বাইরে থেকে তালা দিয়ে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাত্র তিনদিন আগে গত ৩১ মে রাজধানীর মগবাজার দিলু রোডে নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন হেলে পড়ে। তবে কেউ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দুই ভবনের সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো.নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে এক্ষেত্রে বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি ভবন নির্মাণে প্রকৌশলীদের সহায়তা নেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিল্ডিং কোড মেনে চলার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান কোনভাবেই নকশা অনুমোদন করতে পারেন না।
হেলেপড়া ভবনটি অপসারণে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। এ নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও রাজউকের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। রাজউকের পরিচালক, প্রকল্প ও নিয়ন্ত্রণ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জেলা প্রশাসনের দপ্তরের একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
