রানা প্লাজা ধসে আহতদের চিকিত্সা

আর্থিক সহায়তার সিংহভাগ যাচ্ছে দুই হাসপাতালে

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৪৯
সাভারের রানা প্লাজা ধসে আহত গার্মেন্টস কর্মীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকলেও আর্থিক সহায়তার অধিকাংশই যাচ্ছে শুধুমাত্র দু’টি হাসপতালে। এগুলো হলো:সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল (দি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ট্রমাটোলজি এন্ড অর্থপেডিক রিহ্যাবিলি-টেশন-নিটোর)। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দুই হাসপাতালে বিত্তবানরা সহায়তা নিয়ে গেলেও বাকি হাসপাতাল-গুলোতে চিকিত্সাধীনদের হাতে সহায়তা তেমন পৌঁছছে না। এনাম মেডিক্যালে একজন আহত গার্মেন্টসকর্মী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। একই হাসপাতালে আহত রোগীদের চিকিত্সার জন্য ইতিমধ্যে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ জমা পড়েছে। এখানে হিসেবের বাইরেও অনেকে আহতদের নগদ সহায়তা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই দুই হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনো চিকিত্সাধীন রয়েছেন সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় আহত শতাধিক রোগী। এর মধ্যে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, সাভার সিআরপিতে ৫৮ জন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২জন, এপোলো হাসপাতালে ১২ জন এবং ঢাকা ও সাভার সিএমএইচএ ২২ জন চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক রওশন আক্তার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, এনাম মেডিক্যালকে ঘিরে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চলছে। অন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সাধীন আহতদের নিয়ে তেমন প্রচারণা নেই। এজন্য সবাই সাহায্য নিয়ে এখানে ভিড় করছেন। অনেকে রোগীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে সাহায্য দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তা জানতেও পারছে না। এনাম হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সবমিলিয়ে বর্তমানে এখানে চিকিত্সাধীন আছেন ৪৫ জন আহত রোগী। রানা প্লাজা ধসে দুই পা হারানো গার্মেন্টস কর্মী পাখি তাদের একজন। হাসপাতালে যারা আসছেন তাদের সবাই কিছু না কিছু তুলে দিচ্ছেন পাখির হাতে। ইতিমধ্যে তার প্রাপ্ত সহায়তা ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পাখি জানান, ‘দুর্ঘটনার পর কয়েকদিন নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিলো। কিন্তু সবাই যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে প্রাণ ফিরে পেয়েছি আমি। এখন আমি এ টাকা দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করতে পারবো।’ তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেল। দুর্ঘটনায় কোমর ভেংগে যায় রাজবাড়ির মেয়ে রোকেয়ার। হাসপাতালে এসে ভর্তি হবার পর বিভিন্ন মাধ্যমে সাহায্য হিসেবে পাওয়া তার প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে স্বামী আজিজুল। যে স্বামীর জন্য তিনি বাঁচতে চেয়েছেন সে স্বামীই তার সাথে প্রতারণা করেছে। এ নিয়ে তার দু:খের শেষ নেই। এ ব্যাপারে রওশন আক্তার চৌধুরী জানান, এনাম মেডিক্যালে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের অবস্থা একেবারেই খারাপ। কারো হাত নেই, কারো পা নেই। আবার কারো কোমর ভেংগে গেছে। এর মধ্যে মনোয়ার নামের একজন গার্মেন্টস কর্মী দুর্ঘটনার দিন হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। এখনো জ্ঞান ফেরেনি তার। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার সিআরপি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, এপোলো হাসপাতাল এবং ঢাকা ও সাভার সিএমএইচে যে শতাধিক রোগী চিকিত্সাধীন আছেন, তাদের অনেকের অবস্থাও বেশ খারাপ। তাদের কাছে পর্যাপ্ত সহায়তা না পৌঁছায় ভবিষ্যত নিয়ে আতংকে আছেন অনেকেই। সাভার সিআরপিতে ভর্তি হওয়া পঙ্গু-আহতদের চিকিত্সা চলছে। সেখানে বিত্তবানরা তেমন একটা যান না। এখানকার আহদের চিকিত্সার জন্যও অনেক টাকা প্রয়োজন বলে জানা গেছে। এদিকে রানা প্লাজা ধসে যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে একটি ট্রাস্ট খোলা হয়েছে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও বিত্তবানরা জমা দিচ্ছে তাদের অর্থ। ট্রাস্ট্রের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য টাকা দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন রওশন আক্তার চৌধুরী।