তিন নারীর নেতৃত্বে সংসদ

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫০
সংসদের ১৮তম অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী দল যোগ দেয়ায় গতকাল অধিবেশন কক্ষ ছিল পরিপূর্ণ। দেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংসদে উপস্থিত ছিলেন। গতকালই প্রথম সংসদ পরিচালনা করেন নবনির্বাচিত স্পিকার শিরীন শারমীন। স্পিকার, সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা নারী হওয়ার ঘটনা শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বেই বিরল। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। এর আগেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের সিংহভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সংগে সংগে টেবিল চাপড়ে ও দাঁড়িয়ে স্বাগত জানান সদস্যরা। সংসদ নেতাকে এসময় হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই কোরান তেলোয়াত শুরু হয়। নারী স্পিকার অধিবেশনের প্রথমদিনে লাল-সবুজ রংয়ের জামদানি শাড়ি পরে আসেন। সবার চোখ তখন তার দিকে। স্পিকার বসতে গিয়ে বার-তিনেক চেয়ারটি সামনে-পেছনে সরিয়ে নিজের মতো করে নেন। টেবিলে রাখা চশমাটি চোখে রাখলেন। তারপর কলম নিয়ে টেবিলে রাখার কাগজপত্রে চোখ রাখেন। ক্যামেরা ফ্লাস তখন তার দিকে। প্রধানমন্ত্রী বারকয়েক হাসিমুখে তাকালেন স্পিকারের দিকে। যেনো দেশের নারী অগ্রযাত্রার পথে গর্ব করার মতো আরেকটি মাইলফলকের জন্যই অহংকার সংসদ নেতার চোখে-মুখে। ৫ টা ৩৭ মিনিটে বিছমিল্লাহির রহমানির রহিম... বলেই শুরু করেন অধিবেশনে স্পিকারের প্রথম স্বাগত ভাষণ। স্পিকারের বক্তব্যে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রীর হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীও যেনো মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। অধিবেশন কক্ষে সদস্যদের মুখেও মুগ্ধতার রেশ। একের পর এক টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান স্পিকারের ভাষণকে। অন্তত ডজনবার টেবিল চাপড়ান সংসদ সদস্যরা। সবার সহযোগিতা চেয়ে ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরুর পর প্রায় ১১ মিনিট বক্তব্য রাখেন স্পিকার। হুইপ আ স ম ফিরোজ নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমরা আনন্দিত। উত্ফুল্ল। যোগ্য, দক্ষ, সত্, আদর্শবান স্পিকার হিসেবে সব সদস্যের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” বিকেল ৫ টা ৫০ মিনিটে সংসদে প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা। টানা ৮৩দিন অনুপস্থিতির পর তারা সংসদে ফেরেন। বিরোধী দলীয় নেতা এলেন নবম বারের মতো। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রবেশ করেই স্পিকারকে স্বাগত জানানোর ইংগিত দিলে শিরীন শারমিন চৌধুরীও হাত তুলে তাকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল স্পিকার তখন বলেন, “আমি আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি।” এসময় পুরো সংসদ টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান। স্পিকার মনোনয়নের সময় প্রস্তাবক ছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনিও অভিনন্দন জানাতে দাঁড়ান সংসদে। এরপর রাশেদ খান মেনন অভিনন্দন জানান সংসদের পক্ষে। তোফায়েল আহমেদ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “সংসদনেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার নারী। এমন সময়ে আজ কানায় কানায় পূর্ণ সংসদ। কী চমত্কার। এটা খুব সুন্দর ও শুভ।” বঙ্গবন্ধুর সচিব ছিলেন স্পিকারের বাবা। সেই সময়কার স্মৃতিচারণও করেন তিনি। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তোফায়েল বলেন, “বিরোধী দল ছাড়া সংসদ অকার্যকর। সরকার ও বিরোধী দল মিলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়। বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কার্যকর হয় না। আপনারা হরতাল পরিহার করে সংসদে আসেন। যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আমরা সবাই মিলে জাতীয় বিষয়ে চিন্তা করবো।” বাজেট অধিবেশন পুরোটাই বিরোধী দল সংসদে থাকবেন বলে আশা রাখেন তিনি। প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নিলুফার চৌধুরী মনি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্পিকারকে অভিনন্দন জানান। “আপনাকে অভিনন্দন জানানোর জন্যই বিরোধী দলীয় নেতা আজ সংসদে এসেছেন। আপনি আমাদের কথা বলার সুযোগ দেবেন আশা করি।” ১৮তম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকারের অভিষেকের দিন সোমবার সংসদের অধিবেশন কানায় কানায় পূর্ণ থাকলেও স্পিকার নির্বাচনের দিন ছিলো না বিরোধী দল। সেদিন অন্তত দেড়শ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন সংসদে।