নাশকতা সৃষ্টির আশংকায় দিনাজপুরের ১৩৮ কওমী মাদ্রাসায় নজরদারি

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫০
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ১৩৮টি কওমি মাদ্রাসায় কোন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় না। এসব মাদ্রাসা সরকার বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ফলে এসব মাদ্রাসাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারীতে রেখেছে। দিনাজপুরে পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, এসব মাদ্রাসার মধ্যে ১৪টি বড়, ২৮টি মাঝারি ও ৯৬টি ছোট। প্রত্যেকটি কওমি মাদ্রাসায় তালেবানী স্টাইলে গোপনে জিহাদী শিক্ষা দেয়া হয়। সরেজমিন অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে এই মাদ্রাসাগুলো কখনোই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে না। এমনকি স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আলোচনা সভা বা দিবস উদ্যাপন করা হয় না। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানে না জাতীয় সংগীত কী বা কীভাবে এই সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। এসব মাদ্রাসায় দরিদ্র, দিন মজুর, এতিম ও অভাবী পরিবারের শিশুদের ভর্তি করা হয়। পবিত্র কোরআন শিক্ষার জন্য ভর্তি করা হলেও তাদেরকে ইসলামের জন্য জিহাদ করতে হবে, এধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়ে থাকে। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারেরা কাজে লাগাচ্ছে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। অভিযোগ রয়েছে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে আন্দোলন করার জন্য এই জেলার শতাধিক অর্থের যোগানদাতা বিভিন্নভাবে অর্থ প্রদান করছে। অর্থ দাতারা অধিকাংশই ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। এরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং বিভিন্ন আন্দোলনে পুলিশের উপর আক্রমণ চালাতে কোমলমতি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শিশুদের লেলিয়ে দিচ্ছে। গোলাম আযমের রায় ঘোষণার পর সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুর জেলাতেও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের তথ্য পুলিশ প্রশাসন জানতে পেরেছে। দিনাজপুর ২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার এতদিন পরেও যদি এসব কওমি মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।