স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম. রুহুল হক বলেছেন, দেশে ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। এ সংখ্যা চাহিদার বিপরীতে যথেষ্ট নয়। তাছাড়া প্রায় সাড়ে নয় হাজার নার্সের স্বল্পতা রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সেবা প্রদানে কিছুটা ভাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ দেশে আমদানির বিষয়টি আংশিক সত্য বলে তিনি স্বীকার করেন।
গতকাল সোমবার সংসদে বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী সংসদকে এসব তথ্য জানান। দেশের প্রথম মহিলা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে এই অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তারের সংখ্যা ৬১ হাজার ৫১২ জন। ডেন্টাল সার্জনের সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৬৭ জন। ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকারি ২২টি এবং বেসরকারি ৫৩টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দেশে নার্স প্রয়োজন ২৭ হাজার ২৫৫ জন। বর্তমানে নার্স রয়েছে ১৭ হাজার ৮৫৬ জন। অর্থাত্ নয় হাজার ৩৯৯ জন নার্সের স্বল্পতা রয়েছে। তবে পাঁচ হাজার নার্সের পদ সৃষ্টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের অফিস সময়ের বাইরে প্রাইভেট প্রাকটিস করা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এর জন্য কোন ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। তবে দেশের চিকিত্সা ব্যবস্থাকে জনস্বার্থে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে।
এদিকে একজন সদস্য মন্ত্রীর নিকট জানতে চান ভারত, আমেরিকা, জার্মানি ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চমানের ভিটামিনের নামে আমদানি করা হচ্ছে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। কাগজ-কলমে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এসব পণ্য আমদানি হলেও বিক্রি হচ্ছে ওষুধের দোকানে। জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি আংশিক সত্য। জনগণ যাতে বিভ্রান্ত ও অপচিকিত্সার শিকার না হয় সে ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়সহ জেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে কিডনি রোগীদের উন্নত চিকিত্সার জন্য পর্যায়ক্রমে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ একটি করে ওয়ার্ড খোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি ১৯৫টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) গ্রাম ও শহর এলাকায় একযোগে কাজ করছে। দেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দুই হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৪ জন এইডসে আক্রান্ত। এদিকে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে বার্ন ইউনিট চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।
