দেশে গণতন্ত্রের সঙ্গে জঙ্গিবাদের লড়াই চলছে :তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫১
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ও জঙ্গিবাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে গণমাধ্যম রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুর কাছে মাথা নত করবে না, মাফিয়াদের কাছে হার মানবে না। করপোরেট পুঁজির কাছে গণমাধ্যম কখনো মাথা নত করতে পারে না। রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্কাই রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের উদ্বোধন উপলক্ষে ‘বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি:গণমাধ্যমের ভূমিকা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের পক্ষে এবং জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান করবে। কারণ গণমাধ্যম কোনো পণ্য নয়, এটি একটি সামাজিক বিষয়। গণমাধ্যম সত্য প্রকাশে থাকবে আপোষহীন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের ভাবমর্যাদা তখনই ভালো হবে, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ হবে। সে কারণে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমর্যাদা রক্ষায় হরতাল, সংঘর্ষ বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন সংবাদ না দিয়ে বিদেশের কাছে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, সে ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা উচিত। বাংলাদেশকে ‘ক্রীতদাস মুক্ত দেশ’ উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, পোশাক শিল্পের কল্যাণে দেশে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এখন আর দেশের দরিদ্র সাধারণ মানুষকে কারো দাসত্ব করে বেঁচে থাকতে হয় না। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। কিছু সংবাদ মাধ্যমের ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে শিল্প খাতের অনেক ক্ষতি হয়। স্কাই রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান উপদেষ্টা ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এবং ভাবমূর্তি উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমন কোনো ভুল তথ্য কিংবা নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থেকে মিডিয়াকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি সবুর খান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়ন, কর্মের স্বীকৃতি ও কর্মক্ষেত্রে অবদানের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে কর্মীরা উত্সাহী হয়, কর্মস্পৃহা বাড়ে। গণমাধ্যম এভাবে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে স্কাই রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক গোলাম সরোয়ার মিলন বলেন, এখন অনলাইনের যুগ। তাই তারা এই নিউজ পোর্টালটি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভেতরেই দায়িত্বশীলতা নিহিত। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সঠিক তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মাসুম শেখ বলেন, সত্য যত কঠিনই হোক, আমরা সত্যকে সত্য বলব, মন্দকে মন্দ বলব। কালোকে কালো বলব, সাদাকে সাদা বলব। জিটিভি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি জেপি’র মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করিম, বিশিষ্ট সাংবাদিক জগলুল আহমদ চৌধুরী, ইসরাফিল আলম এমপি, নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, নাজমা আক্তার এমপি, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।