দিনাজপুরের মশিদপুরে আকরিক লোহার ভাণ্ডার

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫২
দিনাজপুরের হিলির মশিদপুরে আকরিক লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) জরিপ দল খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূ-বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় অনুসন্ধান চালিয়ে এই খনির সন্ধান পায়। এছাড়া এখানে অপেক্ষাকৃত কম গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও পাওয়া গেছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এরআগে দেশের কোথাও লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটিক মিনারেল) সন্ধান পাওয়া যায়নি। এটিই হচ্ছে প্রথম আবিষ্কার। এখানে ভালো পরিমাণে মওজুদের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে প্রথম লোহার আকরিক আবিষ্কারের খবর পেয়ে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) পরিচালক ও এই প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ নিহালউদ্দীন বলেন, মশিদপুর এলাকায় (মহেশপুর সেতুর পশ্চিমে) কূপ জিডিএইচ-৬৮ খনন করে লোহার আকরিকের সন্ধান মিলেছে। এটি হচ্ছে দেশের লোহার প্রথম আবিষ্কার। তবে কত এলাকা নিয়ে এবং কি পরিমাণে মজুদ রয়েছে তা অনুসন্ধানে জরিপ দল কাজ করছে। তিনি বলেন, এই কূপ খনন করে প্রায় ১২শ’ ফুট গভীরতায় চুনা পাথর, ১৫শ’ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া গেছে। এক থেকে তিন ফুট পুরুস্তরে এগুলো রয়েছে। জরিপ কাজে নিয়োজিত সহকারী পরিচালক (ভূ-তত্ত্ব) মো. নূরুজ্জামান সবুজ বলেনঃ খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূ-বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় জরিপ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। গত ২২ মার্চ খনন কাজ শুরু হয়ে এখনো অব্যাহত আছে। কূপ খনন করে যে উপাদান পাওয়া গেছে, তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জিএসবি’র গবেষণাগারসহ অন্যান্য গবেষণাগারে কাজ চলছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিরাজুর রহমান খান বলেনঃ এখানে লৌহ জাতীয় ধাতব পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে, এ খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। সাড়ে ৪শ’ কোটি বছর আগে এখানে সমুদ্র ছিল। এ কারণে এখানে আগ্নেয়শিলা ছিল। জমাট বাঁধা এই শিলার ভিতরে যে সমস্ত খনিজ পদার্থ খোঁজা হচ্ছে, তা এর ভিতরেই অবস্থান করছে। সেখানে আমরা ম্যাগনেটিক হাই পেয়েছি। যা দেশের জন্য লাভজনক হবে। ভাগ্যক্রমে আমরা এখানে চুনাপাথরের সন্ধানও পেয়েছি। আমরা কখনোই এমন আশা করিনি। এখন আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। এই খনন কাজ সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। তবে বিদেশিদের মাধ্যমে করা হলে প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয় হতো।