মন্ত্রিসভায় দেবোত্তর সম্পত্তি

ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়া অনুমোদন

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
দেবোত্তর সম্পত্তি অব্যবস্থাপনা ও মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৩ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গার্মেন্টস শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত এবং সমাধানে সুপারিশ করতে মন্ত্রিসভা কমিটিতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একজনের পরিবর্তে তিনজন অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের সম্পত্তি (দেবোত্তর সম্পত্তি) ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও হস্তান্তরকে একটি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় আনতে দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১৩-এর খসড়ার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি এখন পাশের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, এ আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ও হস্তান্তর ও উন্নয়নের জন্য একটি বোর্ড গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে। এতদিন এ নিয়ে কোন নির্দিষ্ট বিধি-বিধান না থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের। ‘হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর ভাইস-চেয়ারম্যান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এ দেবোত্তর সম্পত্তি বোর্ডের প্রধান হবেন। বোর্ডে একজন প্রশাসক থাকবেন। সরকারের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন হিন্দু কর্মকর্তা প্রশাসকের পাশাপাশি এই বোর্ডের সদস্য সচিবও হবেন। দেশের প্রত্যেক জেলাতেই দেবোত্তর সম্পত্তি বোর্ডের কার্যক্রম চলবে। এতে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসকরা জেলা বোর্ডের প্রধান হবেন। কেন্দ্রীয় ও জেলা বোর্ডের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সম্পত্তির তালিকা তৈরি করা হবে। এসব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে হস্তান্তর করা হবে। এতে অসত্ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর এবং বেদখল হওয়া সম্পত্তি রক্ষা এবং উদ্ধার করা সম্ভব হবে। দেবোত্তর সম্পত্তি অব্যবস্থাপনান জন্য দায়িদের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বোর্ডের কাছে যে মিথ্যা তথ্য দেবে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৩-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতেই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে। এই আইনের প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের জন্য আগামী তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে। এই আইনে মূলত তিনটি বিষয়ে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কমিশনের বৈঠকে সার্কেল চিফের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়া, অবৈধ দখল, অবৈধ বন্দোবস্ত দেয়ার বিষয়টি এই কমিশন নিষ্পত্তি করবে ও আইনের বাইরেও বৈধ মালিকদের হাত ছাড়া ভূমির জটিলতাও সমাধান করা হবে। কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করেই বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং কমিশনের প্রশাসনিক পদে নিয়োগে উপজাতি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীদের অগ্রাধিকার দেয়া। এর আগে চারজন কমিশনে ছিলেন। বর্তমানের কমিটির সদস্য সংখ্যা পাঁচ। এদের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ তিনজনের মতামতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন।