উন্নয়ন বৈষম্য কবলিত পিরোজপুর অধিকার আদায়ে প্রয়োজন একতা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২৩:৫১
দেশের দারিদ্র্য গড় হারের তুলনায় পিরোজপুর জেলার অবস্থান দেড় গুণ বাড়তি। এ জেলা খাদ্য ঘাটতির এলাকা। সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট থেকে শাক-সবজি না এলে আমাদের আহার তরকারি শূন্য থাকে। জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল উত্পাদন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এলাকায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে ওঠেনি, জনশক্তি রপ্তানির হার নগণ্য। স্থানীয়ভাবেও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বললে চলে। এলাকার সড়কগুলোর অবস্থাও করুণ। অতীতে বিভিন্ন সময় হাতে নেয়া সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন ধারা স্থবির, অনিয়মিত রাস্তাঘাট সংস্কার কিংবা বরাদ্দ বণ্টন পিরোজপুরবাসীর জন্য শুভ ফল বয়ে নিয়ে আসছে না। এতগুলো সমস্যার মাঝে নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির কারণে আগামী ৪০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে গোটা উপকূল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। শুধু পিরোজপুর থেকে জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে লাখো মানুষ। অথচ বারবার এ খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হলেও কার্যকর দীর্ঘ মেয়াদী কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এমনি প্রেক্ষিতে জাতীয় সুষম উন্নয়নের স্বার্থে, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনতে, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পিরোজপুর জেলাকে বিশেষ নজর দিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা প্রয়োজন। জেলাবাসীর দাবি- অগ্রাধিকার খাত থেকে বরাদ্দ দিয়ে খুলনা-বরিশাল মহাসড়কের কঁচা নদীতে সেতু নির্মাণ, পরিকল্পনাধীন পেট্রোবাংলার গ্যাস লাইনের সংযোগ বাগেরহাট থেকে পিরোজপুরে সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দিতে জাতীয় গ্রীড থেকে সরাসরি বিদ্যুত্ লাইন দেয়া। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে অবহেলিত পিরোজপুরকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা, আন্তঃজেলা সংযোগ সড়কের সংস্কারসহ পিরোজপুর জেলার সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অধিক বরাদ্দ এবং বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করা; পিরোজপুর পৌরসভায় বিশেষ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা। জেলায় একটি কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ, বিএসসি ইন নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, মেডিক্যাল কলেজ, উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড, বীজ গবেষণাগার, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা। পদ্মা সেতু নির্মাণের সকল বাধা দ্রুত অপসারণ করা, প্রয়োজনে কয়েক লাখ পাবলিক শেয়ার ছেড়ে অর্থের যোগান নিশ্চিত করাসহ সেতুর রেললাইনের সংযোগ পিরোজপুরে সম্প্রসারিত করা। বেকার সমস্যা সমাধানে ঘরে ঘরে চাকরি দেয়াসহ অতিদারিদ্র্য মোকাবেলায় পিরোজপুরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্যান্য কর্মসূচি জোরদার করা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ এবং উপকূলের শিক্ষার্থীদের ইনসেনটিভ দেয়া। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ। হাসপাতাল সমূহের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় ডাক্তার নার্স নিয়োগ প্রদানসহ ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা। সুন্দরবন ভিত্তিক প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার রোধ করে এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতি উপজেলায় ২টি করে স্পিডবোট, থোক অর্থ বরাদ্দ, প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রাখা, বেড়িবাঁধ উঁচু ও পাকাকরণ, বহুমুখী সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর-বাস্তবানুগ ব্যবস্থা নেয়া, জলবায়ু ট্র্যাস্ট ফান্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা, সমুদ্র-আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করা। সমুদ্রতীরকে ঘিরে ভোলা থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বনায়ন। জাতীয় সংসদে পিরোজপুর জেলার আসন সংখ্যা ভোটারের দিক বিবেচনা করে ৪টি করা, সেক্ষেত্রে আসন ভিত্তিক যে কোন বরাদ্দ ৩ গুণের স্থলে অন্তত ৪ গুণ পাওয়া যাবে। জিয়ানগর উপজেলাকে সম্প্রসারিত করতে পাশের বড় উপজেলা মোড়েলগঞ্জের ২টি এলাকাকে (চরহোগলাবুনিয়া ও বেতবুনিয়া-শিংজোড়-চন্ডিপুর) জিয়ানগরের সাথে সংযোজিত করা। পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া সংযোগ সড়ক এবং ভাণ্ডারিয়া-কাঠালিয়া-কুয়াকাটা সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা। কাউখালী ও পিরোজপুর সদরের মৃিশল্পী ও শীতল পাটি কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া। এ অঞ্চলের পান, পোল্ট্রি শিল্পসহ কুটির শিল্প বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা, নেছারাবাদের পেয়ারা ও নাজিরপুরের ভাসমান সবজি চাষীদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা। প্রয়োজন পেয়ারা-আমড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জুস ফ্যাক্টরি নির্মাণ করা। [লেখক :সদস্য সচিব, পিরোজপুর ঊন্নয়ন নাগরিক আন্দোলন]