আমদানি আর ফলন সংকটের ধকলে কাউখালীর সুপারির বাজার

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২৩:৫২
কাউখালীর স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম বুনিয়াদ সুপারি বাজারে ব্যাপক হারে ধস নেমেছে। গত মৌসুমে খরার কারণে সুপারির উত্পাদনে ব্যাপক ঘাটতি আর বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা মোটা লোকসানের সম্মুখীন হন। তখন ভালো মানের এক কুড়ি (২১০টি) পাকা সুপারির দাম ৪০০ থেকে কমে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সব গ্রেডের সুপারির দামও অর্ধেকে নেমে যায়। কাউখালী দক্ষিণ বাজার, উত্তর বাজার, নতুন বাজার, হোগলা বেতকা, পোলের হাটসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে বিক্রেতা ও চাষীদের কাছ থেকে সুপারির মূল্যহ্রাসের এক করুণ অবস্থা জানা গেছে। গত মৌসুমে বাজারে সুপারির দাম হঠাত্ কমে যাওয়ায় কাউখালীর কয়েক হাজার সুপারি চাষী ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি ভারত ও মিয়ানমার থেকে বিদেশি সুপারি আমদানির কারণে দেশীয় সুপারির দাম কমে গেছে। উপজেলার চাষীরা বিদেশ থেকে সুপারি আমদানি বন্ধ করে দেশীয় চাষীদের বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির চাষ হয়। খরা ও সুপারি পুষ্ট হওয়ার সময় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সুপারি বাগানগুলোয় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সে কারণে সুপারির ফলন তুলনামূলক এ বছর অনেক কম হয়েছে। অন্যান্য বছর উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন সুপারি উত্পাদন হলেও চলতি বছর উত্পাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাউখালীর জয়কুল গ্রামের সুপারি চাষী সেলিম মিয়া, জয়কুল গ্রামের আলী হোসেন, সালাহউদ্দিন, নতুন বাজার এলাকার বারেক হাওলাদার, মীর নাসিরসহ অনেকে জানান, চলতি বছর ব্যাপক খরার কারণে সুপারি যেমন পুষ্ট হয়নি, তেমনি উত্পাদনও অনেক কম হয়েছে। তবে আগের বছর সুপারি উত্পাদনের প্রথম দিকে বাজারে দাম ভালো থাকায় চাষীরা বেশ খুশি ছিলেন। কিন্তু গত মৌসুমে এক পর্যায় সুপারির বাজার একেবারেই পড়ে যায়। বর্তমানে বাজারে টাটি সুপারি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে । চাষীরা জানান, বর্তমানে পিক সিজনে বাজারে সুপারির যে দাম, তাতে তাদের চাষ, আহরণ ও পরিচর্যা করে যে খরচ হয়, তাও উঠছে না। তারা এখন সুপারি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। না পারছেন ঘরে সংরক্ষণ করে রাখতে, আবার বাজারে দাম অনেক কম হওয়ায় তাদের লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সুপারি চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, যা ভবিষ্যতে সুপারির চাষ ও উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ অবস্থা নিরসনে সুপারি বিক্রেতারা বিদেশ থেকে সুপারি আমদানি বন্ধ করে দেশের সুপারি খাত বাঁচাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।