কিংবদন্তী মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়ার সাক্ষাত্কার

‘প্রতিবাদী এক সচেতন বাঙালির দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম’

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২৩:৫৪
ইত্তেফাক ঃ মুক্তিযুদ্ধে কেন যোগ দিলেন — মেজর জিয়াঃ কৈশোর থেকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা,তারমধ্যে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বদান আর সেনাবাহিনীতে জাতিগত নিপীড়ন কবলিত সমর্থ প্রতিবাদী এক সচেতন বাঙালির দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা পিতা অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ও চাচাতো ভাই ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সান্নিধ্য ছোটবেলা থেকেই আমাকে রাজনীতি মনস্ক করে গড়ে তুলেছিল। স্কুলে ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া এবং কলেজে মেনন গ্রুপ ছাত্র ইউনিয়নের মহকুমা সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অংকুরিত হয়। বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানীর আদর্শকে চেতনায় ধারণ করি। ১৯৬৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ ও লাহোর ক্যান্টনমেন্টে চাকরিকালে পাকিস্তানের দু’অংশের ব্যবধান আমার কাছে স্পষ্ট হয়। বাঙালি বিদ্বেষ, বাঙালিদের প্রতি ঘৃণা, বাঙালিকে নীচু জাতি হিসাবে মনে করা—পশ্চিম পাকিস্তানিদের এ রকম মানসিকতা আমার কাছে খুবই খারাপ লাগতো। ইত্তেফাকঃ যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের কথা বলুন - মেজর জিয়াঃ ১৯৭১’র ২১ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হেড কোয়ার্টারের চোখে ধুলো দিয়ে আমি পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে আসি। ছুুটিতে আসার সময় ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে লঞ্চ বসে পরিচয় ঘটে। সেখানে আমি তাদের সাথে গেরিলা যুদ্ধের কলা-কৌশল ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করি। ২৫ মার্চ রাতে ছাত্র-জনতা বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ যারা বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা নিয়ে মাইকিং করছিল। তখন থেকে আমি সক্রিয় ভাবেই ছাত্রলীগের মাইকিংয়ে অংশ নিলাম। ছাত্রলীগের মাইক প্রতিপাদ্য লিখে দিলাম রাত ৩টার দিকে, ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল মালেক আবু যে মাইকিং করছিলেন তা সংশোধন করে এবং তিনি তাই ঘোষণা দিলেন। এর আগের ইতিহাস হচ্ছে পিরোজপুরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছাত্রজীবনেই আমার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ধারণা কাজ করতো। যেটা বলতে পারেন কৈশোর-যৌবনের একটি রোমান্টিসিজম। কিন্তু পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যাওয়ার পরেও আমার এই ভাবুলতার কিছুই পরিবর্তন ঘটেনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে শুরু করা যায় বা কিভাবে যোগদান করবো তা নিয়ে ভাবতাম। এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিল্লি হয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভারতীয় সুন্দরবন হয়ে আমাদের সুন্দরবনে এসে ঘাঁটি তৈরি করবো, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা আমার মনে দৃঢ়সংকল্প অবস্থায় ছিল। ২৬ মার্চ ভোরবেলায়ই পিরোজপুরের আওয়ামী লীগের এমএনএ ও আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন খানের বাসায় গিয়ে হাজির হই। আপ্যায়নের পরে তাঁকে আমি একা একা বললাম মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে আমরা এখন কি করব? তখন তিনি বললেন, আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। যুদ্ধ শুরু করতে হবে। সেখান থেকে আমি বাসায় ফিরে আসলে ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ বা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের তত্কালীন দু’টি উপদলের নেতৃবৃন্দ আমার কাছে আসলেন এবং জানতে চাইলেন, যুদ্ধ শুরু হলে আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবো কি না ? আমি তাদের হ্যাঁ সূচক উত্তর দিয়ে ছিলাম। ইত্তেফাকঃ পিরোজপুরের পুলিশের অস্ত্রাগারের রাইফেল-গুলি ছাত্র-জনতার দখলে কি ভাবে এলো- মেজর জিয়াঃ ২৬ তারিখ পিরোজপুর টাউন হল ময়দানে বিশাল জনসভা হচ্ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের এমএনএ এনায়েত হোসেন খান বললেন, ইয়াহিয়া খান তোমার অস্ত্র আছে, গোলাবারুদ আছে। অস্ত্র আমাদেরও আছে, জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র আমাদের হাতে। এ সময় জনসভা থেকে দাবি ওঠে কোথায় সে অস্ত্র। তখন তিনি অদূরে রিজার্ভ পুকুরের দক্ষিণ পাশে ট্রেজারীর অস্ত্রাগারের দিকে আঙ্গুল তুলে বললেন, ্ওইখানে আপনাদের অস্ত্র রাখা আছে। তখন জনগণের উত্তাল ঢেউ ট্রেজারীর উপরে আছড়ে পড়লো। ঘণ্টাখানের মধ্যেই ট্রেজারীর সকল অস্ত্র জনগণ নিয়ে নিলো। এখানে উল্লেখ্য, যে পিরোজপুরের ছাত্র-জনতা বরাবরই রাজনীতি সচেতন, বিশেষত রাজনৈতিক নেতারা অগ্রসর চিন্তার বলে মুক্তিযুদ্ধের বেশ আগে থেকেই সশস্ত্র যুদ্ধের কথা ভাবতেন। এখানে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি বেশ সংগঠিত ছিল। ছাত্রলীগের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন ও মতিয়া উভয় গ্রুপই শক্তিশালী থাকায় তরুণদের মধ্যে বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটে জনতার এ অস্ত্রাগার দখল ছিল তারই ধারাবাহিকতা। ইত্তেফাকঃ ছাত্র-জনতার হাতে যাওয়া অস্ত্র কি কৌশলে নিয়ন্ত্রণে আনলেন এবং প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহার করলেন- মেজর জিয়াঃ সন্ধ্যার একটু আগে শহরের চাল ব্যবসায়ী মোদাচ্ছের আলী একটি রাইফেল নিয়ে আমাদের পাড়েরহাট রোডের বাসায় আসে। মোদাচ্ছের রাইফেল আনলেও গুলি আনেনি। তাকে গুলি আনতে বললে সে চলে যাওয়ার আগে হঠাত্ করে আমার দু’ পা জড়িয়ে ধরে বললো জিয়া ভাই আপনি যুদ্ধে থাকবেন তো। আমি বললাম অবশ্যই। তারা আবার গুলি আনতে গেল। ঘণ্টাখানেক পর বাড়ির মধ্যে সোরগোল টের পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাই কামাল জাঙ্গিয়া পরা, মাথায় লুঙ্গিতে বাধা রাইফেলের গুলির বোঝা। সাথে তার ৩/৪ জন বন্ধু-বান্ধব ১০/১২টি রাইফেল নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছে। মা-বাবা-বড় ভাই সবাই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, তুমি কেন এর মধ্যে গেছো ইত্যাদি প্রশ্নে। তখন আমি এগিয়ে বললাম ও-ই ঠিক করেছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হবে এবং গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে এ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে এবং তারপরে দেশ স্বাধীন হবে। এটা বলার পরে মা-বাবা শান্ত হলেন। আমি রাতেই ট্রেনিং শুরু করলাম আমাদের বাড়ির পিছনে বৈরাগী নামে একটি বাড়িতে আমার ভাই কামাল ও মোদাচ্ছেরের আনা রাইফেল দিয়ে ট্রেনিং শুরু করলাম। ক্যাম্প স্থাপন করলাম ৭০’র ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের পর পাওয়া ত্রাণ সামগ্রী তাঁবু ও ত্রিপল দিয়ে। পরের দিন সকালে গেলাম এসডিও ও এসডিপিও’র সাথে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করলাম। বুঝতে চাচ্ছিলাম আমি যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি এ খবর তাদের কাছে আছে কিনা। ইতিমধ্যে যে অস্ত্র সংগ্রহ ও ট্রেনিং শুরু করেছি তা নিয়ে তারা কি ভাবছেন। তারাও মুখ খুললেন না আমিও মুখ খুলিনি। এরপর শহরের বর্তমান শহীদ ওমর ফারুক রোডে (সদর রোড) সাধনা পুলের পাশে তাজ ষ্টোরে আমার সহপাঠী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়াজ আহমেদ (হাফেজ সাহেবের ছেলে) ও আমেরিকা প্রবাসী সদ্য প্রয়াত প্রকৌশলী লুত্ফর রহমানসহ বসে চা খাচ্ছিলাম। তখন ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ আহমেদ হিরণ মাইকিং করছিল আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার আহ্বানে। আমি ওই মাইক থামিয়ে একটি কাগজে লিখে দিলাম লেঃ জিয়াউদ্দিন মুক্তিফৌজ গঠনের জন্য আহ্বান করছে এবং গতকাল যারা অস্ত্র পেয়েছে তারা আজ বিকালে সরকারি স্কুলের ময়দানে অস্ত্র নিয়ে হাজির হবেন। এ ঘোষণা চলাকালে ১০/১২ জন পাকিস্তানি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর এনসিও-জেসিও-সৈনিক এসে আমার সাথে দেখা করলো। আমি তাদেরকে বিকালে স্কুল মাঠে আসতে বললাম এবং ১৪শ’ তরুণ-যুবকের একটি রেজিমেন্ট গঠন করলাম। সেখানে প্রশিক্ষণও শুরু হলো এবং সেখানে কোম্পানি ও প্লাটুন ফরমেশন করা হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে এনায়েত সাহেব এসে হাজির হলেন এবং তাকে গার্ড অব অনার দেয় হলো। এরপর থেকে সংগ্রাম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, ভরণপোষণ শুরু হলো। অস্ত্রাগার থেকে পাওয়া ৪০০ রাইফেলের মধ্যে সোয়া দু’শ’ আমার কমান্ডে আসলো। বাকি অস্ত্র আওয়ামী লীগ, ভাসানী ন্যাপ ও মোজাফফর ন্যাপের অধীনে চলে গেল। ইত্তেফাকঃ পিরোজপুরে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় কিভাবে সম্পৃক্ত হন- মেজর জিয়াঃ পিরোজপুরের আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাসহ নেতা-কর্মী, ভাসানী ন্যাপ, মোজাফফর ন্যাপ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেন। তাদের মধ্যে কেউ আমার সাথে সুুন্দরবনে, কেউ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে সরাসরি ভূমিকা রাখেন। এমএনএ-এমপিএ’রা ভারতে প্রবাসী সরকার ও শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন। ইত্তেফাকঃ পাকবাহিনী পিরোজপুর শহর দখল করে কি প্রক্রিয়ায়- মেজর জিয়াঃ ২ মে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা শহীদ ফজলুর হটকারী সিদ্ধান্তে ট্রেজারীর টাকা লুট হলে একটি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি নড়বড়ে হয়ে গেল। এই সুযোগে পাকবাহিনী বরিশাল থেকে এসে শহর দখল করে। ইত্তেফাকঃ কারা পাক সেনাদের সহযোগী ছিল- মেজর জিয়াঃ সৈয়দ মোঃ আফজাল, হুলারহাটের আশরাফ আলী সিকদার, কৃষ্ণনগরের দেলোয়ার মল্লিক, পাড়েরহাটের দানেশ মোল্লা, মোসলেম মাওলানাসহ মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা পাকিস্তানিদের দোসর হলো। ইত্তেফাকঃ পিরোজপুর ত্যাগের পর কোথায় ঘাঁটি করলেন- মেজর জিয়াঃ পাকবাহিনী পিরোজপুর শহর দখল করলে আমি প্রথমে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে তার ছোট ভাই শেখ নাসেরের সাথে দেখা করতে যাই। এসময় পাক সেনারা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিলে আমি বাঁশবাড়িয়া-নাজিরপুর-কচুয়া-মোড়েলগঞ্জ হয়ে সুন্দরবনে যাই এবং সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করি। এখানে সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসাবে সদর দপ্তর স্থাপন করি। ইত্তেফাকঃ সুন্দরবনে পিরোজপুরের কারা কারা আপনার সহযোদ্ধা হন- মেজর জিয়াঃ বর্তমানে পিরোজপুরের এমপি এ কে এম এ আউয়াল, সাবেক এমপি গাজী নূরুজ্জামান বাবুল, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাদশা, অ্যাডভোকেট শামসুল হক, হারুন অর রশীদ, আবুল কালাম মহিউদ্দিন, পিরোজপুর কলেজের ছাত্র আসাদ, প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সিকদার, ভাণ্ডারিয়ার আব্দুল আজিজ শিকদার, খন্দকার শহীদুল ইসলাম শানু, মঠবাড়িয়ার শহীদুল আলম বাদল, মজিবুল হক মজনু প্রমুখ আমার সাথে সুন্দরবনে সহযোদ্ধা হিসাবে নানা দায়িত্ব পালন করেন। ইত্তেফাকঃ পিরোজপুর অঞ্চলে কারা, কোথায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন- মেজর জিয়া- স্বরূপকাঠিতে জাহাঙ্গীর বাহাদুর, কাউখালী আব্দুল হাই পনা ও হাবিবুর রহমান, নাজিরপুরে সরোয়ার হোসেন, বামনার বুকাবুনিয়ায় লেঃ মেহেদী আল ইমাম বীর বিক্রম প্রমুখের নেতৃত্বে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে ঘাঁটি এলাকা ছিল এবং বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। ইত্তেফাকঃ পিরোজপুর পুনর্দখল করা হলো কখন- মেজর জিয়াঃ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমার নির্দেশে সুন্দরবন থেকে শামসুল হক খান ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পিরোজপুর দখলের জন্য পাড়েরহাটে আসে। এরমধ্যে ৮ ডিসেম্বর পাকবাহিনী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পিরোজপুর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ইত্তেফাকঃ স্মরণযোগ্য যুদ্ধকালীন ঘটনা- মেজর জিয়াঃ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের ঘটনা সমীক্ষা করা হয়েছে। যা উল্লেখযোগ্য এবং পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়ে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০০ যুদ্ধের ইতিহাস যাচাই বাছাই করে তার মধ্যে ১২টি যুদ্ধকে শীর্ষ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে সুন্দরবনের দু’টি যুদ্ধ রয়েছে। সুন্দরবনে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন ছিল না। সুন্দরবনের পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধ হয়েছে। যেখানে তাদের আত্মরক্ষার জন্য বিমানবাহিনীর সাহায্য নিতে হয়েছে। ইত্তেফাকঃ এ মুহূর্তের কথা কিছু বলুন- মেজর জিয়াঃ জামায়াতে ইসলামী জনসভায় ঘোষণা করেছে গৃহযুদ্ধের কথা। বর্তমান অবস্থায় আমি মনে করি জামায়াতে ইসলামী অঘোষিত গৃহযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। রেলস্টেশনে বগিতে আগুন দিচ্ছে, রেললাইন উপড়ে ফেলছে, পুলিশ সদস্যদের মাথা থেতলে দেয়া— এসব কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে পড়ে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে পড়ে না এবং যে পর্যন্ত না গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে ফেরানো না যাবে সে পর্যন্ত জামায়াতের কাছ থেকে এই গৃহযুদ্ধের হুমকি থেকে যাবে। যা এ দেশের মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্ম, নারী সমাজ তথা আমজনতা প্রতিরোধ করবে। সাক্ষাত্কার গ্রহণ :নাসিম আলী