দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে পিরোজপুরের সংশ্লেষ ঐতিহাসিক, যা অবিচ্ছেদ্য, অবিনশ্বর ও আবহমান। আর এ সম্পর্কের মূল বিন্দু স্বয়ং ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, যিনি এ মাটির সন্তান। পিরোজপুরের আপামর মানুষের কাছে তাই প্রতিষ্ঠানটির আকর্ষণ একান্ত আপন। যেমন মানিক মিয়া ও তাঁর উত্তরাধিকারদের প্রতি এ জমিনের প্রতিটি বাসিন্দার অনুভব চিরন্তন।
দেশের সুপ্রাচীন সংবাদপত্র ইত্তেফাকের স্থানীয় কর্মীরাও সেভাবে এ প্রতিষ্ঠানের সাথে এক অন্তরাত্মার বন্ধনে আবদ্ধ। সারাদেশে ইত্তেফাকের আটটি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে, যার পাঁচটি বিভাগীয় শহরে এবং তিনটি জেলা শহরে, যেমন চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, যশোর, বগুড়া ও পিরোজপুর। এসব অফিসের প্রধানগণ সকলেই স্টাফ রিপোর্টার। ১৯৯৬ সালের ১ মে ইত্তেফাকের পিরোজপুর অফিস স্থাপিত হয় এবং অফিস প্রধান হচ্ছেন মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী। উপজেলা সংবাদদাতারা হচ্ছেন ভান্ডারিয়া-কেএম ফজলুর রহমান, কাউখালী-রবিউল আহসান রবিন, স্বরূপকাঠি-হালিমুর রহমান শাহীন, নাজিরপুর-সিদ্দিকুর রহমান তুহিন ও মঠবাড়িয়া-সুশীল চৌধুরী। পিরোজপুরে ষাটের দশকে ইত্তেফাকের প্রথম সংবাদদাতা ছিলেন গোলাম মোস্তফা। তিনি ৭০ সাল পর্যন্ত এ পদে নিয়োজিত থেকে পরে অধ্যাপনা ও আইন ব্যবসায় ব্রতী হন। ২০০৩ সালে তিনি মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পিরোজপুরের ইতিহাস রচনায় ব্যাপৃত ছিলেন। ১৯৭২ সাল থেকে ইত্তেফাকের পিরোজপুর সংবাদদাতার দাায়িত্ব পান অধ্যাপক এসএম সালেহ। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে কর্মরত ছিলেন এবং পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরের পর প্রফেসর সালেহ ২০০১ সালেহ ইন্তেকাল করেন। মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ছিলেন গোলাম মোস্তফা ফারুক বাচ্চু। ১৯৯৯ সালে তিনি মারা যান। কাউখালী সংবাদদাতা পদের এবিএম শাহজাহান বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। এছাড়া পিরোজপুর অফিসে নিজস্ব সংবাদদাতা পদে ফসিউল ইসলাম বাচ্চু ও নাজিরপুর সংবাদদাতা পদে অধ্যাপক লুত্ফর রহমান কর্মরত ছিলেন।
লেখক:ইত্তেফাক পিরোজপুর অফিসের তথ্য প্রযুক্তি কর্মী।
