সমস্যার বেড়াজালে বন্দী সম্ভাবনাময় পাড়েরহাট মত্স্যবন্দর

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২৩:৫৭
সুন্দরবনসহ বঙ্গোপসাগরের মধ্য উপকূলে আহরিত বিপুল পরিমাণ মত্স্যসম্পদের অবতরণ, বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পাড়েরহাট মত্স্যবন্দরটির অবদান ব্যাপক। কিন্তু এ বন্দরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় মত্স্যজীবী ও মত্স্য ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার অন্ত নেই। বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) উপকূলে কয়েকটি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র গড়ে তুললেও পাড়েরহাটে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আজও কার্যকর হয়নি। সমপ্রতি বিএফডিসি একটি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেও তার অগ্রগতি নেই। অনুরূপ ২০০৫ সালে এখানে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প চূড়ান্ত করে। কিন্তু অর্থ ছাড়ের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। অথচ পাড়েরহাট স্বাধীনতার পূর্বাপর থেকে সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য। ৭টি বরফকল, ৩৭টি আড়ত, ৪টি ডকইয়ার্ড, ৪টি ফ্লোট ফ্যাক্টরিসহ পাঁচশতাধিক ট্রলার নিয়ে একটি সম্পূর্ণ মত্স্যবন্দর হিসেবে পাড়েরহাট প্রতিষ্ঠিত হলেও পিরোজপুর জেলা সদরের অদূরে অবস্থিত এ বন্দরটির উন্নয়নে সরকারের আগ্রহ কম। সুন্দরবন উপকূলের মত্স্যভাণ্ডারকে জাতীয় অর্থনৈতিক খাতে সদ্ব্যবহারের জন্য পাড়েরহাট মত্স্যবন্দরকে আরও আধুনিক সুবিধাসমৃদ্ধ করতে মত্স্যজীবীদের দাবি দীর্ঘদিনের। অথচ এখন নাব্যতা সংকটে নিপতিত কচা নদীর তীরে অবস্থিত এই মত্স্যবন্দরটি। দক্ষিণাঞ্চলের প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র পাড়েরহাটের দক্ষিণে বিরাট চর পড়ায় এই নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ বছর আগে বিলুপ্ত এখানকার লঞ্চঘাটটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তও এ সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাধীনতার পরপর পাড়েরহাটের বাদুরায় স্থানীয় মত্স্যজীবী সমপ্রদায়ের উদ্যোগে বেসরকারি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। উপকূলের বিভিন্ন স্থানে বিএফডিসির আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র থাকলেও প্রাচীন এ পাড়েরহাট মত্স্যবন্দরে স্থানীয়রা এ কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছেন। মত্স্যজীবীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এখানে আড়ত, বরফকল, ডকইয়ার্ড, ফ্লোট ফ্যাক্টরি, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি রয়েছে মত্স্য শিকারের নানা উপকরণ, যথা- জাল, দড়ি, বঁড়শি, ফ্লোট, নোঙ্গর এবং নৌযানের জ্বালানি, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ জেলেদের নানা রসদ বিক্রির ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ মত্স্যবন্দরে যেমন বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত বিপুল পরিমাণ মাছ বাজারজাতকরণের জন্য আনা হয়, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভারতসহ বিদেশে রফতানির জন্য এখান থেকেই নৌ ও সড়কপথে চালান দেয়া হয়।