বিড়াল-মাসির হাঁড়ির খবর

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৩, ১৮:১৭
‘বেড়াল-মাসির ছোট্ট ছেলে আনল কিনে পাঁচটি বেল, চকবাজারে বেচতে যাবে, ধরল গিয়ে চাটগাঁ -মেল। ভিড়ের চাপে কান দিয়ে তার গ্যালন গ্যালন বেরোয় তেল- লক্ষ টাকা মণ দরে তা পাইকারিতে হচ্ছে সেল।’ বন্ধুরা, এ হল বিড়াল নিয়ে ছড়াকারের আজগুবি কল্পনা। আমাদের পরিচিত পোষা বিড়াল কিন্তু মোটেও অতটা পরিশ্রম করে না। সে অতটা কষ্ট স্বীকার করে বেল বিক্রি করতে চাটগাঁ-মেলও ধরে না, পরিশ্রমে তার কান দিয়ে গ্যালন-গ্যালন তেলও বের হয় না। আসলে পোষা বিড়াল হল অতি আরামপ্রিয়, আয়েশি প্রাণী। এরা গৃহস্থের বাড়িতে থাকে। বাঘ, হায়েনা, মেচোবাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদিও বিড়াল প্রজাতিভুক্ত। এরা থাকে বনে। পোষা এবং বুনো মিলে পৃথিবীতে মোট ৩৪ প্রজাতির বিড়ালের বাস। আমাদের বাংলাদেশে বাস করে ৮ প্রজাতির বিড়াল। তবে বন্ধুরা, আমরা আজ এখানে শুধু পোষা বিড়ালের নানান খবর জানারই চেষ্টা করব। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে বলেছেন, পৃথিবীতে ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লক্ষ পোষা বিড়াল রয়েছে। প্রায় ১ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিড়ালের আবির্ভাব। তবে পোষা বিড়ালেরা ১০ হাজার বছর আগে থেকে মানুষের বাড়িতে, মানুষের সাথে বসবাস করছে। মানুষের খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য খাবার এবং ইঁদুর, আরশোলাসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়, পাখি ইত্যাদি খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। কখনো-সখনো এরা গৃহস্থের হাঁস-মুরগির বাচ্চার ওপর হানা দিতেও কসুর করে না। বিড়াল শিকার ধরায় খুবই পটু। এদের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। অন্ধকারেও এদের চোখ জ্বল জ্বল করে জ্বলে এবং এরা অন্ধকারে সবকিছু দেখতে পায়। বিড়ালের শ্রবণ এবং ঘ্রাণশক্তিও খুব প্রখর। বিড়াল দিনে গড়ে প্রায় ১৩/১৪ ঘন্টা ঘুমায়। ঘুমের মাধ্যমেই তারা শক্তি সঞ্চয় করে থাকে। একটা সাধারণ পোষা বিড়ালের ওজন গড়ে ৪/৫ কেজি হয়। এ পর্যন্ত জানামতে সবচেয়ে বড় বিড়ারের ওজন ২১ কেজিরও বেশি- মাঝারি সাইজের একটা কুকুরের মতো আর কী! বিড়াল খুব সৌখিন আর আমুদে প্রাণী। এরা গড়ে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।