পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদদের ৪ বছরের কোর্সে এই একটা বাড়তি পাওয়া হলো সার্ক ট্যুর। আমরা বিশ্বাস করি এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। যাত্রা শুরুর দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আমাদের যশোরের বেনাপোল পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে আসে। পরদিন খুব ভোরে আমরা বাংলাদেশ বর্ডার ক্রস করে ইন্ডিয়ায় নানান নিয়ম-কানুন পার করে বিকেল ৩টা নাগাদ কলকাতা শহরে প্রবেশ করি। কলকাতা আর ঢাকার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য আছে বলে তো মনে হয় না। দুইদিন কলকাতায় থাকলাম। দেখলাম অনেক কিছুই। সবচেয়ে ভালো যেটা লাগল তা হচ্ছে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া সাইঞ্চ সিটি, ইভালুয়েশন পার্ক, ভিক্টোরিয়া পার্ক, পার্ক স্ট্রিট, রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। দুইদিন পর দিল্লীর টিকেট না পেয়ে দার্জিলিং-এর ট্রেনে উঠলাম। নিউ জলপাইগুড়ি জংশন থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জিপে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে চলার পর দার্জিলিং হোটেলের কাছে এসে পৌঁছলাম। এখানে পানির খুব সমস্যা। প্রত্যেকদিন শেষ রাতের ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়, দুপুরের দিকে একটু কমে আসে আর বিকেলে আকাশে দেখা দেয় সাদা শুভ্র মেঘ। আমাদের হোটেলটা মেঘের অনেক উপরে।
পরদিন খুব ভোরে ট্রেন আজমীর জংশনে এসে থামল। আজমীর শরীফে মাজার জিয়ারতের পর বাসযোগে পৌঁছলাম জয়পুর। অনেক গরম সেখানে। শরীর নাকি পুড়ে যায়। কিন্তু আমরা যাওয়ার সাথে সাথে এত বৃষ্টি শুরু হয়, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। জলমহল, হাওয়া ভবন, আম্বার ফোর্ট, রাজ মন্দির সিনেমা হল উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
ওইদিন রাতেই বাসযোগে পৌঁছলাম আগ্রা। সেখানে শুধুমাত্র দিনটুকু কাটাবার জন্য একটা হোটেল বুক করলাম। আগ্রার বিখ্যাত তাজমহল, আগ্রা ফোর্ট পরিদর্শন করে বিকেলেই দিল্লীর বাসে উঠে পড়লাম। রাত দশটায় বাস দিল্লী পৌঁছে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে পুরাতন জামে মসজিদ এলাকায় যেতে যেতে আরও এক ঘণ্টা। আর সবাইকে হোটেলের রুম বুঝিয়ে নিজের রুমে আসতে আসিফ আর প্রসেনের বেজে গিয়েছিল রাত দুইটা। দুইদিন পর কলকাতা পৌঁছলাম। পরে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বাতাস গায়ে লাগতেই চোখে কান্না এসে গেল। কিভাবে মানুষ নিজের দেশের সাথে শত্রুতা করে, ভুলে থাকে নিজের দেশকে, সম্পদের পাহাড় গড়ে নিজের দেশের সাথে দুই নম্বরি করে। মাত্র ১৫ দিন দেশের বাইরে থেকে মনে হয় কত বছর ছিলাম দেশের বাইরে।
