আকাশ জুড়ে লাল, হলুদ আর বেগুনী রঙের মাখামাখি। সবুজের দীপ্তির মাঝে বাহারি ফুলের সমারোহ চোখে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে সবার। কৃঞ্চচূড়া, সোনালু আর জারুল ফুলে ভরে গেছে চারপাশটা। এই হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বর্তমান চিত্র। শাটল ট্রেন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্বরে নামলেই লাল কৃঞ্চচূড়ার ছড়াছড়ি। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসার কষ্টটা নিমিষেই হাওয়া হয়ে যায়। শুধু স্টেশন চত্বর নয়, কৃঞ্চচূড়ার বদৌলতে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এখন লাল রঙের আলপনা। কেবল লাল নয়, আছে হলুদ আর বেগুনী রঙেরও মাখামাখি।
কৃঞ্চচূড়া, সোনালু আর জারুল ফুল ফুটে একাকার হয়ে গেছে আশপাশ। পুরো ক্যাম্পাসের চেহারাটাই যেনো বদলে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে এ গাছগুলো লাগিয়েছে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বলেন, ক্যাম্পাসে প্রায় ৪৫০ টি জারুল, ৭৫ টি কৃঞ্চচূড়া এবং ১৪৫ টি সোনালু ফুলের গাছ রয়েছে। রাস্তার দুই পাশের গাছগুলো উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ লাগিয়েছে। এছাড়া অন্য গাছগুলো বিভিন্ন হল ও অনুষদের উদ্যোগে লাগানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি বিদ্যুতের লাইনগুলো মাটির নিচে দিয়ে দিতো তাহলে পুরো ক্যাম্পাসে আরও কয়েক হাজার ফুলের গাছ লাগানো যেত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে পেছনে রয়েছে কৃঞ্চচূড়ার গাছ। এছাড়া স্টেশন চত্বর, বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, আইন অনুষদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, রব হল, শাহাজালাল হল, আলাওল হলের সামনেও রয়েছে কয়েকটি গাছ।
সোনালু ফুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খেলার মাঠের রাস্তার দুই পাশে। এছাড়া আইন অনুষদ, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল-কলেজের সামনে কিছু সোনালু গাছ রয়েছে। জারুল ফুলের গাছ বেশি রয়েছে শহীদ মিনারের পাশের রাস্তায়। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী হলের রাস্তার দু’পাশে রয়েছে অসংখ্য জারুল গাছ।
